ঈদে গত বছরের তুলনায় বিক্রি কমেছে ৫৬ হাজার কোটি টাকা

ঈদে গত বছরের তুলনায় বিক্রি কমেছে ৫৬ হাজার কোটি টাকাকরোনার জন্য বিশ্বজুড়ে সবকিছুরই পরিবর্তন এসেছে। প্রাণঘাতি এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে বিশ্বের প্রতিটি দেশেই লকডাউন বা কারফিউ জারি করা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে সব ধরনের দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এমন পরিস্থিতিতে অসহায় হয়ে পড়েছে সব দেশের নিন্মআয়ের মানুষগুলো।
করোনায় বিশ্ববাসিকে আটকে রাখলেও সময়ের পালাক্রমে চলে এসেছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। ধরা হয় মুসলমানদের কাছে এটাই সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। পুরো মাস রোজা রাখার পর নিজের সেরা পোশাক পরে, সুগন্ধী ব্যবহার করে, মিষ্টান্ন খেয়ে ঈদের নামাজে অংশ নেওয়ার কথা বলা আছে ধর্মীয় রীতিতে।
বাংলাদেশের সংখ্যাগুরু মুসলমান তাই এই ঈদ উপলক্ষে নিজের ও পরিবার সদস্য-স্বজনদের জন্য কেনাকাটা করে থাকেন। সব আয়ের মানুষই তাদের সাধ্যমতো সাধারণত নতুন পোশাক, জুতা, স্যান্ডেল, নারীদের গহনা, প্রসাধনী, অলঙ্কার ও বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রী, খাদ্যপণ্য সামগ্রী কেনাকাটার ধুম পড়ে। তবে এ বছর এর পুরো ব্যতিক্রম। প্রায় দুই লাখ কোটি টাকার এই ঈদের অর্থনীতি করোনা ভীতিতে এবার প্রায় পুরোটাই স্থবির ছিল। ব্যবসায়ীদের দাবি, ঈদে কেনাকাটা কমেছে অন্তত ৫৬ হাজার কোটি টাকার।
অদৃশ্য করোনা ভাইরাসের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আরেকটি সর্বজনীন উৎসব পহেলা বৈশাখের সময় বন্ধ থাকার পর এই ঈদ উৎসবেও বন্ধ ছিল দেশের বেশিরভাগ শপিং মল, মার্কেট, দোকানপাট। ফলে যে ঈদ ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি বাজার ও দেশের অর্থনীতি চাঙা করতো এবার তার প্রায় কিছুই নেই। বন্ধ শপিং মল, দোকানপাটগুলোর দিকে চেয়ে এবার শুধুই দীর্ঘশ্বাস ফেলেছেন সেই ব্যবসায়ীরা- অন্যান্যবার একই জায়গায় বেচাকেনায় যাদের দম ফেলার অবকাশ থাকতো না। যারা দোকানপাট খুলতে পেরেছেন, হতাশ তারাও।
করোনা ঝুঁকি নিয়েও সরকারের বিশেষ অনুমতিতে গত ১০ মে থেকে সারা দেশে শপিং মল, মার্কেট, দোকানপাট খুললেও ক্রেতা শূন্যই কেটেছে বেশির ভাগ মার্কেটগুলোতে। করোনার ভয়াবহতার কারণে সরকারের দেয়া নানা শর্তের মাঝে দোকানগুলোতে খুব একটা ভিড় ছিলো না। ফলে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত না হওয়ায় খোলার পর সপ্তাহ না ঘুরতেই প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ হয়ে গেছে বেশিরভাগ জেলার এসব দোকানপাট। সব মিলিয়ে হতাশায় পুড়ছেন ব্যবসায়ীরা।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, গত বছর রমজানের ঈদকে কেন্দ্র করে দোকানগুলোতে বেচাকেনা হয়েছিল অন্তত ৬০ হাজার কোটি টাকা। এবারের ঈদে এই সামান্য সময়ে বেচাকেনা হয়েছে আনুমানিক ৩ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ গত রমজানের ঈদের তুলনায় এবার অন্তত ৫৬ হাজার কোটি টাকা কম লেনদেন হয়েছে। তবে ঈদের আগে সরকার দোকান, মার্কেট খুলে দেওয়ায় সারা দেশের ৫৬ লাখ ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কোনোমতে আত্মসম্মানটা বাঁচাতে পেরেছেন বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, সরকারের এই উদ্যোগের কারণে ক্ষুদ্র এসব ব্যবসায়ীকে কারও কাছে হাত পাততে হয়নি।
প্রসঙ্গত, গত ১০ মে থেকে সরকার দোকানপাট, মার্কেট, শপিং মল ও বিপণিবিতানগুলো খোলার অনুমতি দিলেও তাতে ভোক্তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি মার্কেট চালু করার সুযোগ পেয়েও করোনা সংক্রমণ রোধ করতে বড় বড় শপিং মলগুলো বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ।