মাগুরায় ছাত্রদল সভাপতি গ্রেফতার, পুলিশ ও ছাত্রদল নেতাদের বক্তব্যে বৈপরীত্য

মাগুরা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুর রহিমকে গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরের দিকে মাগুরার ভায়নাস্থ নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, চলমান মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোগে ন্যূনতম সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) প্রচারণায় বাধা দেয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বলছেন, মাগুরায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ধানকাটা কর্মসূচি ও করোনা মোকাবিলায় দুঃস্থদের মাঝে সাহায্য-সহযোগিতা করার কারণে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে গ্রেফতারের বিষয়ে জানতে চাইলে মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন ব্রেকিংনিউজকে জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জুমার জামায়াতে ইমামসহ সর্বোচ্চ ১২ জন মুসল্লি থাকার কথা। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত শুক্রবার শহরের ভায়না পৌর গোরস্থানে শতাধিক মানুষের জমায়েত হয়। খবর পেয়ে ইসলামীক ফাউন্ডেশন মাগুরার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান সেখানে গিয়ে মুসল্লিদের করোনা পরিস্থিতে সরকারি নির্দেশনার কথা জানান। এ সময় সেখানে উপস্থিত জেলা ছাত্রদল সভাপতি আব্দুর রহিম তাকে গালিগালাজ করেন এবং এক পর্যায়ে ধাক্কা দেন। 

ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় মনিরুজ্জামান ওইদিন সন্ধ্যায় মাগুরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। যার ভিত্তিতে সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে আব্দুর রহিমকে পুলিশ তার বাসা থেকে গ্রেফতার করে। এ বিষয়ে সদর থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে।

এদিকে আব্দুর রহিমকে গ্রেফতারে মাগুরা জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ বলেন, বারবার কারা নির্যাতিত ছাত্রনেতা যখন করোনা ভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাহায্যে কাজ করছিলেন তখন বিনা কারণে বিনা ওয়ারেন্টে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাগুরা জেলা ছাত্রদল সভাপতি আব্দুর রহিমকে গ্রেফতারে নিন্দা জ্ঞাপন করে বলেছেন, ‘বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস মহামারি এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। এহেন সংকটময় পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সহায়তা দিতে দেশব্যাপী যখন বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো তৎপর হয়ে উঠেছে তখন সরকারি প্রশাসন নেতাকর্মীদের গ্রেফতার এবং নানা কায়দায় জুলুম-নির্যাতন চালাতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কারণ, নিরন্ন ও অভুক্ত মানুষ যেন কোনও ত্রাণ সহায়তা না পায়। এরই অংশ হিসেবে গত সোমবার (৪ মে) রাত ১২টা ৪০ মিনিটে মাগুরা জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুর রহিমকে কোনও কারণ ছাড়াই পুলিশ গ্রেফতার করেছে।’ 

বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘করোনার ব্যাপক বিস্তারে বাংলাদেশের জনগণ এখন গভীরভাবে আতঙ্কিত। ঢাকা মহানগরীসহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে লকডাউনের কারণে এখন দুর্ভিক্ষাবস্থা। চারিদিকে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ একমুঠো খাবারের জন্য হাহাকার করছে, খাদ্যাভাবে শিশুদের বুকফাটা আর্তনাদ আকাশ-বাতাস ভারি করে তুলেছে। চলমান এই দুর্বিষহ অবস্থায় অসহায় মানুষকে সাহায্য সহযোগিতা করতে যখন দলমত নির্বিশেষে সকলে নিজের সামর্থ অনুযায়ী পাশে থাকা দরকার, তখন সরকার সেই উদ্যোগ না নিয়ে বরং বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করার ধারাবাহিক কর্মসূচি পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিরোধী দল দমনের লক্ষ্যে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও জুলুম নির্যাতন চালাতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মাগুরা জেলা ছাত্রদল সভাপতি আব্দুর রহিমকে বিনা কারণে গ্রেফতার সরকারের সেই জুলুম-নির্যাতনেরই নিরবচ্ছিন্ন অংশ। আমি আব্দুর রহিমকে গ্রেফতারের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।’