বিশ্বজুড়ে করোনায় মৃত্যু ২ লাখ ৭৫ হাজার

চীন থেকে যে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) ছড়িয়ে গেছে বিশ্বে তার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে যত মৃত্যু হয়েছে কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে তা বিশ্বজুড়ে মোট মৃত্যুর প্রায় এক চতুর্থাংশ।
শনিবার (০৯ মে) জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিশ্বের ১৮৭ দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে গেছে মহামারি কোভিড-১৯। এতে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৩৯ লাখ ৩৯ হাজারেরও বেশি। আর এ মহামারিতে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার মানুষের।
অপরদিকে জরিপ পরিচালনা করে এমন একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটার বলছে, এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে।
সংস্থাটির তথ্যমতে, মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ লাখ ১৪ হাজারেরও বেশি। আর মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৭৬ হাজার ২৩৭ জনের। এসময়ের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন প্রায় ১৩ লাখ ৮৬ হাজার।
জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৭৭ হাজার ১৮০ জনের। এরপরে যুক্তরাজ্যে ৩১ হাজার ৩১৬, ইতালিতে ৩০ হাজার ২০১, স্পেনে ২৬ হাজার ২৯৯, ফ্রান্সে ২৬ হাজার ২৩৩, ব্রাজিলে ১০ হাজার ১৭, বেলজিয়ামে ৮ হাজার ৫২১, জার্মানিতে ৭ হাজার ৫১০, ইরানে ৬ হাজার ৫৪১, নেদারল্যান্ডসে ৫ হাজার ৩৭৭, কানাডায় ৪ হাজার ৬৯৭, চীনে ৪ হাজার ৬৩৭, তুরস্কে ৩ হাজার ৬৮৯, সুইডেনে ৩ হাজার ১৭৫ ও মেক্সিকোতে প্রাণ গেছে ৩ হাজার ১৬০ জনের। এছাড়াও যেসব দেশে করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে তার প্রায় সবখানেই ঘটেছে প্রাণহানির ঘটনা।
মৃত্যুর মতো আক্রান্তের তালিকায়ও শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১৩ লাখের কাছাকাছি মানুষ। এরপর ধারাবাহিকভাবে রয়েছে স্পেন, ইতালি, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রাজিল, তুরস্ক, ইরান ও চীন। বিশ্বের প্রায় সব মহাদেশেই ছড়িয়ে গেছে এ মহামারি।
এদিকে কোভিড-১৯ ভাইরাস মানবসৃষ্ট না প্রাকৃতিক তা নিয়ে চলছে টানাপোড়েন। এটা যে মানবসৃষ্ট তার নানা চমকপ্রদ তথ্য হাতে রয়েছে বলে চীনকে দায়ী করছে যুক্তরাষ্ট্র। অপরদিকে চীন বলছে, এমনটা তারা করেনি। আর দেশটির এ কথায় সমর্থন রয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারও। ফলে সংস্থাটির সঙ্গেও টানাপোড়েন চলছে যুক্তরাষ্ট্রের।
২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানের একটি মার্কেট থেকে করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হয়। দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে উহানসহ পুরো হুবেই প্রদেশে। এরপর ধীরে ধীরে তা বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নেয়।