তীব্র গরম আর ‘লকডাউনে’ মানুষের হাঁসফাঁস

দেশের অনেক এলাকায় এখন তাপপ্রবাহ বইছে। এটি ঈদ পর্যন্ত থাকতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের আগ পর্যন্ত গরমে কাহিল থাকবে মানুষ। তাপমাত্রার পারদ বেড়েই চলেছে৷ প্রচণ্ড গরমে পুড়ছে জনপদ। অস্বস্তি বেশি বাড়ছে দুপুরের দিকে। লকডাউনে কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করলেই অস্বস্তি হচ্ছে।  ঘামে ভিজে যাচ্ছে শরীর। ঘরেও বিদ্যুতবিহীন থাকা অসহনীয়।

এ দিকে করোনা সংকটের মধ্যেও লোডশেডিং নামক যন্ত্রণা থেকেও মুক্তি পাচ্ছে না চট্টগ্রামের মানুষ। দিনে তো ২/৩ বার লোডশেডিংতো আছেই। সামান্য বাতাসে বিদ্যুৎ চলে যায়। লোকজনের অভিযোগ, করোনায় সব ধরনের অফিস -আদালত বন্ধ থাকা সত্বেও বিদ্যুৎ এর ভেলকিবাজিতে তারা বিরক্ত। 

বন্দর এলাকার বাসিন্দা কামরুল জামান জানান, লকডাউনের কারণে বাসায় বন্দি হয়ে আছি। কিন্তু সকাল, বিকেল কিংবা রাতে লোডশেডিং হচ্ছে।তীব্র গরমের মধ্যে লোডশেডিং হলে বাসায় থাকা কষ্টকর। 

পিডিবির তথ্য মতে, করোনা সংকটে সরকারি সাধারণ ছুটির মধ্যে কলকারখানা বন্ধ থাকলেও চট্টগ্রামে বর্তমানে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকে। চট্টগ্রামে সরকারি-বেসরকারি ২০ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। বর্তমানে এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পিক আওয়ারে ২ হাজার ২৬৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে চাহিদা কম থাকার কারণে বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

তবে পিডিবি বলছে, চট্টগ্রামে কোনো লোডশেডিং নেই। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বাধ্য হয়ে বন্ধ করতে হয়।

পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী শামছুল আলম জানান, এখন লোডশেডিং নেই। তবে যান্ত্রিক সমস্যার কারণে অনেক সময় আমাদের মেরামতের কাজ করতে হয়।

তিনি জানান, রবিবার চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট। শনিবার (১৬ মে) চট্টগ্রামে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের মতো চাহিদা ছিল। এর মধ্যে পুরোটাই সরবরাহ ছিল। শিকলবাহা থেকে ২২৫ মেগাওযাট, কাপ্তাই ৫ টি ইউনিটের মধ্যে ১টি থেকে ৩৮ মেগাওয়াট, জুলধা থেকে ২০০ ও দোহাজারী থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। রাউজান তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি বন্ধ রয়েছে। আরেকটি থেকে ৯০ মেগাওয়াট মতো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া হাটহাজারী পিকিং বিদ্যুৎ কেন্দ্র আপাতত বন্ধ রয়েছে। করোনার এ সময়ে কিছু কিছু পাওয়ার প্লান্ট বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে করোনার মহামারীর সাথে এবার যোগ হয়েছে আরেক দুর্যোগ ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’। বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়ের অভিমুখ রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে ও তৎসংলগ্ন ওড়িশ্যা ও বাংলাদেশের উপকূল। সে কারণে ঘূর্ণিঝড়টি ঠিক কোথায় আছড়ে পড়তে পারে তা এখনো নিশ্চিত নয়।

আবহাওয়াবিদরা জানান, গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ৮০ শতাংশ। বর্তমানে নিম্নচাপটির যে গতিমুখ রয়েছে, তা পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে ঢোকার পথ নির্দেশ করছে। তবে গতিপথ যে কোনো সময় পরিবর্তন করতে পারে। আর যে গতিতে এগোচ্ছে সেই গতি ধরে রাখলে ১৯ কিংবা ২০ মের দিকে বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে।