‘বাবা পু’লিশ ছিলেন, মা আমা’র ৩ বছর বয়সে মা’রা যায়, এরপর…



২০১৫ তে সীমাহীন চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অ’ভিষেক হয় পরীমনির। এরপর আর পেছনের ফিরে তাকাতে হয়নি সময়ের আ’লোচিত এই অ’ভিনেত্রীকে।
ছোটবেলাতেই মাকে হারিয়েছেন এই চিত্রনায়িকা। এরপর কৈশোরে হারিয়েছেন বাবাকে। প্রায়ই তাই বাবা ও মাকে নিয়ে স্মৃ’তিচারণ করতে দেখা যায় এই নায়িকাকে। নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে ২০১৭ সালের ১৮ জুন বাবা দিবসে করা একটি পোস্ট শেয়ার করেন পরীমনি। বাবাকে নিয়ে আবেগী স্ট্যাটাসে অনেক তথ্য তুলে ধরেন তিনি।
দীর্ঘ সেই স্ট্যাটাসে হারিয়ে ফেলা বাবার জন্য ঝড়লো ভালোবাসা, আবেগ ও হাহাকার।পরীমনির স্ট্যাটাসটি তুলে ধ’রা হলো—
‘বাবা, তুমি কি বাবা! নাহ তোমাকে কিছু লিখবো না আমি আজ।
লিখবো তোমাকে নিয়ে…।
হ্যালো ফেইসবুক দুনিয়া, এইযে কত বাবা দিবস গেল!
আমি শুধু দেখেই গেলাম বাবা দিবসে সবার কত কত পোস্ট…
বাবাকে নিয়ে কখনো কোন পোস্ট দেইনি আগে।আজ দিলাম।দেয়ার একটা কারন আছে। কারনটা স্টেটাসে লিখেছিলাম একবার। নাহ্ সেটা নিয়ে আজ আর কিছু লিখতে চাচ্ছিনা। তাহলে হয়তো আবার মেজাজটা সামলাতে পারবো না।
যাই হোক, ছবিতে আমি আমা’র বাবা (মনিরুল ইস’লাম)এর সাথে।
তিনি বেঁচে নেই আজ ৮ বছর হয়ে যাচ্ছে…
বাবা পু’লিশ ছিলেন। তার গায়ে পু’লিশের পোশাক দেখে ছোট্ট বেলায় আমা’র এইম হয়েছিলো পু’লিশ হবার।
মা ম’রে যায় তখন আমি ৩ বছরেরও কম ছিলাম। বাবা এমন একটা ধাক্কা নিতে পারেননি বলেই হয়তো দেশ ছেড়েছিলেন তখন।
তারপর,বাবার ছায়া করে পেয়েছি নানু ভাইকে
নানু নানী দুজনই টিচার। নানু বাড়ি আর দাদু বাড়ী দু’বাড়িরই বড় নাতি আমি অনেক আহ্লাদে বড় হওয়া আমা’র। কখনো এক বিন্দু অনুভব করিনি বাবা মা’র শূন্যতা। ভুল করেও মনে পরেনি কখনো তাদের কথা।
এমনকি এখনো ভাবি মা বাবা কি!
আসলে বাবা বলতে হলে, তিনি আমা’র নানুভাই শামসুল হক গাজী
আর আমা’র জন্ম’দাতা হলেন মনিরুল ইস’লাম
ওহ একটা মজার বিষয় বলি, অনেকেরই আমা’র নাম নিয়ে কৌতুহল দেখেছি। আসল নাম, ডাক নাম, কে রেখেছে ইত্যাদি ইত্যাদি…
নাম কখনো আসল নকল হয় নাকি আবার হাহা হতে পারে ডাক নাম, সার্টিফিকেট অথবা বংশীয় নাম। আমা’র পরী নামটা আমা’র নানীর দেয়া। তার নানীর নাম ছিল পরীবিবি। আমা’র জন্মের কিছু বছর আগে তার নানী গত হয়ে যান, আর আমা’র জন্মের পর সে আমা’র নাম রেখে দেন পরী আর মনিটা সবাই অ’তি আদরে জুড়ে দিল আর কি
আমা’র আরেকটা নাম শামসুন্নাহার স্মৃ’তি।
শামসুন মানে দিনের সূর্য / সূর্যের আলো/ সূর্যরশ্মি এরকম কিছু। নানুর নামের সাথে মিলকরে এই নাম।
আর স্মৃ’তিটা নাকি বাবা তার জীবনের প্রথমবার হ’জ্ব করতে গিয়ে ঠিক করেছিলেন আল্লাহর কাছে মে’য়ে চেয়ে। যদিও তখন নাকি বাবা বিয়েই করেননি এসব বাবার কাছ থেকে শোনা আমা’র।
বাবা ম’রে যাবার পর আমা’র স্মৃ’তি নামটা কেবল স্মৃ’তিই হয়ে গেল।
সাবাই বলে মে’য়েরা নাকি বাবার স্বভাবই বেশি হয় একটু। আমিও নাকি আমা’র বাবার মতো বিশ্রী বদমেজাজ, একটুবেশি আবেগপ্রবন, স্পটভাষী, প্রচণ্ড রকম সাহস এসব পেয়েছি বাবার সাথে আমা’র অনেক বেশি স্মৃ’তি নেই। বড় হবার পর বাবাকে কাছে পেয়েছিলাম বছরখানেকের মতো। মনে আছে, যেদিন বাবা দেশে ফিরে প্রথম আমা’র সামনে আসে…একটা ছোট্ট বাচ্চার মতো শব্দ করে করে সেকি কা’ন্না!
কতো যে রাত পোহাতো বাবা মে’য়ের জেগে জেগে!
শুধু আমা’র ছোট্ট বেলার যত রকম গল্প কাহিনী…
একদিন বাবা তার একটা সাদা রংঙ্গের শার্ট আমাকে দিয়ে খুলতে বলে।খুলে দেখি শার্টের ভেতরে আঁকাবাঁকা হাতে শুধু বাবা আর বাবা লেখা!
দেখেই বোঝা যাচ্ছিল হাতের লেখাটা কোন বাচ্চারই লেখা।
বাবা আমাকে জড়িয়ে ধরে অনেকক্ষণ চুপ করে থাকার পর বলে জানো এখানে ২৭৩ বাবা লেখা আছে। তুমি কেবল লিখতে শুরু করেছিলে তখন। কলম হাতে দেয়ার পর যেখানেই সুযোগ পেতে সেখানেই ছোট্ট করে বাবা শব্দটা লিখতে।
আহারে বাবা!
ওহো আমিতো ভুলেই গেছিলাম যে আমি ফেইসবুকে লিখছি 🙃সরি 🙏আসলে বাবা নিয়ে লেখার কোন সীমা-পরিধি আমা’র জানা নেই তো
থাক আর না লিখি আজ।
ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল বাবা’