চিকিৎসার জন্য সহায়তা চাচ্ছেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে জীবন বাঁজি রেখে একাত্তরে যুদ্ধ করেছেন। স্বাধীনতার পরও দেশ গড়ার যুদ্ধে লড়েছেন। এখন লড়ছেন নিজের জীবন বাঁচানোর যুদ্ধে। তিনি হলেন রংপুরের পীরগাছা উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের তিনবারের নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমানে রংপুর জেলা পরিষদের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন।

চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে কাজ করেছেন এলাকার উন্নয়নে। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে পীরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করেছেন। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ রংপুর জেলা ইউনিটের সহকারী কমান্ডার (প্রকল্প ও সমবায়) এর দায়িত্বে রয়েছেন।

গত ২ মে হঠাৎ ব্রেইন স্ট্রোক করেন তিনি। বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। চিকিৎসার জন্য অর্থাভাবে মুত্যুর প্রহর গুনতে হচ্ছে লড়াকু এই মানুষটিকে। হাসপাতালের কেবিনে শয্যায় থাকা দুইবারের স্বর্ণপদক জয়ী এই চেয়ারম্যান এখন চোখ খুললে অন্ধকার দেখছেন। বাঁচার আকুতি থেকে তাঁর দু'চোখ বয়ে ঝড়ছে অশ্রু।

সারাজীবন মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিলেন আপোষহীন। নিজের জন্য কিছুই করেননি। মানুষের ভালবাসাই ছিলো তার বড় সম্পদ। শিক্ষানুরাগী এই মানুষটি নিজ উদ্যোগে গ্রামে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতা করেছেন। শিক্ষার প্রসারে বহু জমি দান করেছেন। করোনা মহামারির শুরুর দিক থেকে গ্রামের মানুষকে সচেতন করেছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিয়েছেন। দিয়েছেন নিজের সামর্থ্য থেকে খাদ্য সহায়তা।

অথচ আজ তাঁর চিকিৎসার জন্য অন্যের আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন। জীবন যুদ্ধে বড়ই অসহায় সময় কাটছে তাঁর। প্রতিদিন চিকিৎসা বাবদ প্রায় ত্রিশ থেকে চল্লিশ হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে। নিজের যা ছিল, সবই শেষ। এখন ভরসা অন্যের সহযোগিতার। আনোয়ার হোসেনকে বাঁচাতে এখন আর্থিক সহায়তা দরকার বলে জানান তার ছেলে মাজহারুল সোহাগ। 

তিনি  বলেন, সারাজীবন আমার বাবা মানুষের জন্য কাজ করেছেন। মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছেন। যুদ্ধ করেছেন দেশ ও মানুষের জন্য। কিন্তু আজ এই দুর্দিনে তাঁর পাশে কেউ নেই।  এই মানুষটি যখন থাকবে না তখন শুভাকাঙ্ক্ষীরা এসে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলবে আনোয়ার হোসেন খুব ভালো ছিলেন। আমি সেই সব শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুরোধ করছি, আমার বাবার শেষ সময়ে তাঁর কাছে গিয়ে একটিবারের জন্য যদি বলেন আমরা আছি আপনার পাশে। হয়তো মানুষটি শেষ সময়ে শান্তি পাবেন।