করোনা জয়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিমাদ্রী খীসা

করোনা ভাইরাস (কোভিট-১৯) পজেটিভ হওয়ার দীর্ঘ ১৮দিন পর সুস্থ হলেন ভৈরব উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিমাদ্রী খীসা। 

গত ১৮ এপ্রিল দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এসিল্যান্ড হিমাদ্রী খীসা করোনায় আক্রান্ত হন। ১৪ দিন আইসোলেশনে থাকার পর পরপর দুইবার করোনা পরীক্ষার করা হলে তাঁর নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। খুবদ্রুত তিনি তাঁর কর্মস্থলে ফিরবেন বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছেন। 

করোনা জয়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিমাদ্রী খীসা তাঁর অভিমত জানাতে গিয়ে বলেন, পজেটিভ ও নেগেটিভ দুটি শব্দের মধ্যে এতটা তফাত তা আগে বুঝতে পারেনি। যখন জানলাম আমার করোনা পজেটিভ মুহুতেই শরীর ও মন এত পরিবর্তন হবে ভাবতে পারিনি। তবে ভেঙ্গে পড়েনি, নিজের মনোবলকে শক্ত রেখেছি কিভাবে সুস্থ হয়ে দেশের মানুষের জন্য কাজ করবো। তাই নিজেকে প্রস্তুত করেছি একজন যোদ্ধা হিসেবে। 

তিনি আরও বলেন, ১৪দিন ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন, ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবারসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিটা মুহুর্ত পাড় করেছি। ফেসবুক, মোবাইল ফোন ব্যবহার, টিভি দেখা বন্ধ করে দিয়েছি করোনার খবর শুনে যেন নতুন করে মনোবল ভেঙ্গে না যায়। মনকে ফ্রেশ রাখার জন্য মজার মজার মুভি দেখেছি ও বই পড়েছি। আক্রান্ত হওয়ার ১৪দিন পর প্রথম ও দ্বিতীয় টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পাড়ায় খুবই ভালো লাগছে। সাধারণ মানুষের আর্শীবাদ ও ভালোবাসা আমাকে মুগ্ধ করেছে।

উলে­খ্য, ভৈরব উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিমাদ্রী খীসাসহ ৯জন পুলিশ সদস্য, ৮জন চিকিৎসক, ১৪জন নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ ১৪ জন স্বেচ্ছাসেী ও সাধারণ মানুষসহ মোট আক্রান্ত হয় ৪৬ জন। এরমধ্যে ৩৬জন এখন সুস্থ হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন স্বাস্থ্য বিভাগ। করোনা আক্রান্তের পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়া ৩৬জন করোনা জয়ীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান ভৈরব উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি।