বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারী আব্দুল মাজেদের ফাঁসি ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারী আব্দুল মাজেদের ফাঁসি ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে৪৫ বছর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে (Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman) হত্যায় সরাসরি অংশগ্রহণের অপরাধে বাংলাদেশের (Bangladesh) প্রাক্তন সেনা ক্যাপ্টেন আব্দুল মাজেদের (Abdul Majed)ফাঁসি হল রবিবার মধ্যরাতে। কেরানিগঞ্জে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে এই ফাঁসি কার্যকর হয়। বিডিনিউজ২৪.কম সূত্রে একথা জানা গিয়েছে। জেলার মাহবুবুল ইসলাম জানিয়েছেন রাত ১২.০১ মিনিটে ফাঁসি দেওয়া হয় মাজেদকে। গত মঙ্গলবার ঢাকায় গ্রেফতার করা হয় মুজিব হত্যার অন্যতম এই অপরাধীকে। শুক্রবার মাজেদের স্ত্রী ও অন্য চার আত্মীয় প্রায় দু'ঘণ্টার জন্য দেখা করার সুযোগ পান মাজেদের সঙ্গে। তার আগে গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ অপরাধীর প্রাণবিক্ষার আর্জি খারিজ করে দেন। তখনই স্থির হয়ে যায় ফাঁসি হচ্ছেই।
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়ে দিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতির এমন সিদ্ধান্তের অর্থ অপরাধীকে ফাঁসিতে ঝোলানোয় আর কোনও বাধা রইল না।
মঙ্গলবার আচমকাই ঢাকার মীরপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় মাজেদকে। প্রায় আড়াই বছর লুকিয়ে থাকার পর ওইদিনই মাজেদ বাড়ি ফেরেন। তখনই পুলিশের বিশেষ শাখার হাতে গ্রেফতার হন তিনি।
আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, ‘স্বঘোষিত হত্যাকারী' মাজেদ কেবল যে বঙ্গবন্ধুকে হত্যায় অংশ নিয়েছিলেন তাই নয়, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা সেন্ট্রাল জেলের কড়া সুরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে চারজন জাতীয় নেতাকেও হত্যা করেন তিনি।

শোনা গিয়েছিল মাজেদ ভারতে লুকিয়ে রয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঢাকা থেকে গ্রেফতার হলেন তিনি। গতমাসেই তিনি দেশে ফেরেন বলে জানা যাচ্ছে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যে ছয় আসামি পলাতক ছিলেন, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মাজেদ তাদেরই একজন।
সরকারি এক আইনজীবী জানাচ্ছেন, মাজেদ আদালতে স্বীকার করেন তিনি গত ১৫ বা ১৬ মার্চ বাংলাদেশে ফিরেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, গত ২৩ বছর ধরে কলকাতায় লুকিয়েছিলেন তিনি।
বারো জন প্রাক্তন সেনা আধিকারিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে থাকার কারণে। এর মধ্যে ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারিপাঁচজনকে ফাঁসি দেওয়া সম্ভব হলেও একজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয় পলাতক অবস্থায়।
বাকি ছ'জনের অন্যতম ছিলেন মাজেদ।