পদ্মাপাড়ে ঢাকামুখী জনস্রোত থামছেই না, লঞ্চ চলতে দেয়ার দাবি মালিকদের

পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মুন্সীগঞ্জের লোহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটে ঢাকাগামী যাত্রীদের ঢল নেমেছে। কর্মস্থলে যোগ দিতে ও ঈদের কেনাকাটা করতে পরিবার-পরিজন নিয়ে নানা পেশার মানুষ ঢাকা ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে আসছেন। 

সোমবার (১১ মে) সকাল থেকে ঢাকাগামী যাত্রীরা মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাট দিয়ে শিমুলিয়ায় আসছে। ফেরি ও ট্রলারে উপচে পড়া ভিড়। ঝুঁকি নিয়েও পদ্মা পাড়ি দিয়ে ঢাকা অভিমুখে আসছে হাজার হাজার লোক। 

গতকাল রবিবার থেকে ঢাকায় দোকানপাট, শপিং মল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলতে সরকার অনুমতি দিলেও অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই খুলেনি। তবে ঈদের আগাম কেনাকাটায় ও কিছু কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কমচারীরা মানুষ ঢাকার দিকে আসতে শুরু করেছেন। 

সোমবারও সকাল থেকেই কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া ঘাটে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়ে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ভয় উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষকে ফেরিতে ঠাসাঠাসি করে পদ্মা পাড়ি দিয়ে গন্তব্যের দিকে ছুটতে দেখা গেছে। 

সড়ক পথেও যানবাহন একেবারেই সীমিত। তাই যেসব যাত্রীরা নদী পাড় হয়ে তীরে আসছেন তারা ব্যাটারিচালিত আটো, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ট্যাম্পু, ইয়েলো ক্যাব, নসিমন, করিমন, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য ছোট গাড়ি ধরে গন্তব্যে যেতে রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নেমেছেন।

এ বিষয়ে মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সিরাজুল কবীর জানিয়েছেন, ‘গত কয়েক দিন ধরেই ঢাকামুখী মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। প্রতিদিন শত শত লোক আসছে। সবাই ঢাকামুখী যাত্রী। গার্মেন্টেস খোলার ঘোষণার পর মার্কেটও খুলে দেয়ার ঘোষণা দিলে নানা শ্রেণি-পেশার শত শত লোক গত কয়েক দিন ধরে ঢাকা ও তার আশপাশের জেলাগুলোতে ছুটছেন।’

এদিকে ফেরিতে প্রতিদিন এভাবে যাত্রী পারাপার হতে দেখে কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌপথের লঞ্চ মালিকরা যাত্রী পারাপারে তাদের লঞ্চ চলাচল খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। 

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসি শিমুলিয়া ঘাটের এজিএম মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘লঞ্চ মালিকরা চাচ্ছেন লঞ্চ চালুর ঘোষণা দিতে। কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌপথে মোট ১২টি ফেরি চলাচল করছে। ফেরিতে শত শত যাত্রী নদী পার হচ্ছেন। দেখে মনে হয় কারও মধ্যে কোনও করোনা সংক্রমণের ভয় নেই।’