৭ রাষ্ট্রদূতের টুইট ‘দুর্ভাগ্যজনক, হতাশাজনক ও অগ্রহণযোগ্য’: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি নিয়ে সরকারবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে নতুন করে কয়েকজনকে গ্রেফতার করায় এবিষয়ে টুইট করেছেন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাত প্রভাবশালী রাষ্ট্রদূত।

তাদের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যকে ‘দুর্ভাগ্যজনক, হতাশাজনক ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে মোমেন বলেন, ‘তাদের কোনও বক্তব্য থাকলে তারা সেটা কূটনৈতিক উপায়েই বলতে পারতেন।’

ড. মোমেন বলেন, ‘আমরা আমাদের মতো করে দেশ পরিচালনা করছি। আমি খুবই হতাশ। এটা খুবই হতাশাজনক এবং দুঃখজনক। এটা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।’

বাকস্বাধীনতার মর্যাদার সঙ্গে দায়বদ্ধতার বিষয়টি জড়িত মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতের উদ্দেশ্যে বলেন, তারা যদি পোশাকশিল্পের ক্রয়াদেশ বাতিলের বিষয়ে কিছু বলেন, অথবা আমাদের অভিবাসীদের নিরাপত্তা ও সহায়তা নিয়ে এবং অন্তত ছয় মাস তাদের চাকরির নিশ্চয়তা নিয়ে কথা বলেন, তবে খুশি হবে বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর জোর দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন এই টুইট করেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার, ইইউ’র রাষ্ট্রদূত রেনসে তেরিঙ্ক, নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত হ্যারি ভেরওয়েজ, যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত রবার্ট ডিকসন, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত সিডসেল ব্লেকেন, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত শার্লোট স্লাইটার ও ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি এসট্রাপ পিটারসন 

আর্ল মিলার এই টুইটে লিখেছেন, সঠিকভাবে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় মুক্ত ও স্বাধীন মিডিয়া নির্ভরযোগ্য ও বাস্তবভিত্তিক তথ্য পরিবেশন করতে পারে, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে বাকস্বাধীনতা সমুন্নত রাখা এবং সাংবাদিকদের ঠিকমতো কাজ করতে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

রেনসে তেরিঙ্ক তার টুইট বার্তায় বলেন, এই সমস্যাসংকুল সময়ে বাকস্বাধীনতা অন্য যেকোনও সময়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ফেক নিউজ একটি বড় ধরনের সমস্যা হলেও সাংবাদিকদের স্বাধীন ও মুক্তভাবে তাদের কাজ করতে দিতে হবে।

একই মত পোষণ করে রবার্ট ডিকসন লিখেছেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য নির্ভরযোগ্য ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রয়োজন।

সিডসেল ব্লেকেন, শার্লোট স্লাইটার ও উইনি এসট্রাপ পিটারসন একই ধরনের মন্তব্য করে টুইট করেছেন।