খোঁজ মিলেছে পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটতম ব্ল্যাক হোলের, আয়তনে সূর্যের চারগুণ!

পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটস্থ কৃষ্ণ গহ্বর বা ব্ল্যাক হোলের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা। আর এই ব্ল্যাক হোল এতই কাছে যে এর চারপাশে পাক খাওয়া নক্ষত্রগুলো সাধারণ মানুষ খালি চোখেই দেখতে সক্ষম! 

বিজ্ঞানীদের ধারণা এরকম আরও ব্ল্যাক হোল হয়তো পৃথিবীর কাছাকাছি আরও বেশ অনেকগুলোই আছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন এই ব্ল্যাক হোলটি পৃথিবী থেকে ‘মাত্র’ ১০০০ আলোকবর্ষ দূরে। চিলির ইউরোপিয়ান সাদার্ন অবসারভেটরি থেকে প্রথম এই ব্ল্যাক হোলটি আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানীরা। 

তারা জানিয়েছেন যদি কোনও মানুষ দক্ষিণ গোলার্ধে দাঁড়িয়ে একেবারে পরিষ্কার রাত্রের আকাশে লক্ষ্য করেন তাহলে খালি চোখেই তিনি এই ব্ল্যাক হোলের চারপাশে ঘুরতে থাকা নক্ষত্র দেখতে সক্ষম হবেন।

যে বিজ্ঞানীরা এই ব্ল্যাক হোল আবিষ্কার করেন তাদের মধ্যে অন্যতম পিটার হার্দ্রাভা বলেন, ‘আমরা যখন এটি প্রথম আবিষ্কার করি, আমরা অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। এটাই প্রথম ব্ল্যাক হোল যার পাশের নক্ষত্রগুলো খালি চোখে দেখা যায়।’

বেশ কিছুকাল ধরেই বিজ্ঞানীরা দুটি নক্ষত্র আছে এমন সৌরজগত পর্যবেক্ষণ করছেন। সেই সূত্রেই এই ব্ল্যাক হোলটি আবিষ্কার হয়। তারা দেখেন ওই সৌরজগতের সূর্যগুলি কোনও একটি বস্তুর কারণে অদ্ভুত ভাবে আচরণ করে। আর সেই থেকেই বিজ্ঞানীরা ওই ব্ল্যাকহোলের সন্ধান পান। আয়তনে ওই ব্ল্যাক হোলটি সূর্যের চারগুণ।

তবে ব্ল্যাক হোলটি অনেকটাই শান্ত। তার মানে এটি বহুপ্রাচীন একটি ব্ল্যাক হল। সেই কারণেই আশেপাশের নক্ষত্রগুলোকে এখনও ‘গিলে খায়নি’ এই কৃষ্ণ গহ্বরটি। কিন্তু এত কাছে থাকা সত্ত্বেও কেন এতদিন সন্ধান পাওয়া যায়নি এই ব্ল্যাক হোলের? 

বিজ্ঞানীদের ধারণা এর আশেপাশে থাকা নক্ষত্রের উজ্জ্বলতার কারণেই এই ব্ল্যাক হোল এতদিন সকলের চোখ এড়িয়ে গিয়েছে। ফলে এরম আরও অনেক ব্ল্যাক হোল কাছাকাছি থাকতে পারে বলেই মত বিজ্ঞানীদের।