রোগীকে না নিয়েই উড়াল দিয়েছে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স!

রোগীকে না নিয়েই উড়াল দিয়েছে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স! চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতলের একজন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আবু জাফর রুমি হোসেন (৩৭)। তিনি অনেক শিশু ও মায়ের মুখে হাসি ফিরিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তিনি আজ জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। যে কোন সময় জীবন প্রদীপ নিভে যেতে পারে এ শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের। সেই সঙ্গে ম্লান হয়ে যাবে তার দুই সন্তান ও তাদের ডাক্তার মায়ের আশা ভরসা। 

রবিবাব (১৭ মে)  বিকালে ঢাকা থেকে ইমপ্রেসের এয়ার অ্যাম্বুলেন্স (হেলিকাপ্টার) এসেও তাকে ঢাকায় না নিয়ে চলে গেছে, কোভিট–১৯ আক্রান্ত রোগী সন্দেহে!  অথচ দুইদিন আগের নমুনা রিপোর্টে তিনি পজেটিভ নন। সম্মুখযোদ্ধা চিকিৎসক আবু জাফর রুমি হোসেনে উন্নত চিকিৎসার জন্য  তাকে ঢাকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন চট্টগ্রামের চিকিৎসকরা।

চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালনা কমিটির  ট্রেজারার রেজাউল করিম আজাদ জানান, শ্বাসকষ্ট নিয়ে ৪দিন আগে ডাক্তার আবু জাফর রুমি হোসেন হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে একদিন তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। করোনা পরীক্ষা করা হয়। দুইদিন আগে আসা সেই রিপোর্ট অনুযায়ী তিনি করোনায় আক্রান্ত নয়। তার অবস্থা এতটাই সংকটাপন্ন যে তাকে সড়ক পথে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সে যোগে পাঠানো সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ড  পরার্মশে তাকে এয়ার অ্যাম্বেুলেন্স যোগে ঢাকায় পাঠানোর জন্য ২লাখ ১০ হাজার টাকায় ইমপ্রেসের এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয়। 

রবিবার বিকাল ৫টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতালের পাশে বহুতলা কলোনী মাঠে অবতরণ করে। এ সময় শত শত উৎসুক মানুষ সেখানে ভীড় করে। তাদের সন্দেহ হয়  ডা. রুমি হোসন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত! এ অবস্থায়  মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি তাকে না নিয়ে আকাশে উড়াল দেয়। রুমি হোসেনের স্ত্রীও ডাক্তার। তিনি চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজের প্রভাষক। যোগ করেন রেজাউল করিম আজাদ।

এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ইমপ্রেস কর্তৃপক্ষের নানা সমালোচনা করতে থাকেন সারাদেশের ডাক্তার ও সাধারণ মানুষ। তারা প্রশ্ন করেন, একজন চিকিৎসক হাজারো মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন, অথচ তিনি আজ নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। ইমপ্রেস এয়ার অ্যাম্বুলেন্স কর্তৃপক্ষের এ কেমন আচরণ?