পুরুষের শুক্রানুতেও করোনা ভাইরাস!

দিন যতোই যাচ্ছে ততোই ভিন্ন ভিন্ন রূপ প্রকাশ করছে করোনা ভাইরাস। চীনের উহানে চার মাসে আগে তাণ্ডব শুরু করে এই ভাইরাস। বর্তমানে চীনের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বব্যাপী ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে করোনা।

করোনার থাবায় গ্রাস বিশ্বের ২১২টি দেশ ও অঞ্চল। এসব দেশে এখন পর্যন্ত (শুক্রবার বেলা সোয়া ১১টা) আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ। প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৩ লাখ।

মরণঘাতি এই করোনা ভাইরাসে নতুন রূপ দেখতে পেয়েছেন চীনের গবেষকরা। এই ভাইরাস এতটাই ভয়ঙ্কর যে তারা এর অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন আক্রান্ত পুরুষের শুক্রানুতেও। সে অনুসারে, শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ানোর শঙ্কা আরও প্রকট আকারে দেখা দিয়েছে।

তবে আক্রান্ত পুরুষের শুক্রানুতে কী পরিমাণ ভাইরাসের উপস্থিতি দেখা গেছে এবং শারীরিক সম্পর্কের ফলে করোনা সংক্রমণ ঘটতে পারে কি না, সে ব্যাপারে গবেষকরা এখনও কোনও তথ্য প্রকাশ করেননি।

চিকিৎসা বিষয়ক জার্নাল জামা নেটওয়ার্ক গবেষণাটির ফলাফল প্রকাশ করেছে। চীনের শাংকিউ মিউনিসিপ্যাল হসপিটালের গবেষকরা এ ব্যাপারে গবেষণাটি করেছেন।

শুক্রানুতে করোনা ভাইরাস থাকার ব্যাপারে গবেষণার ফল এটাই প্রথম পাওয়া গেল। করোনা পজিটিভ হলে নিরাপদ শারীরিক সম্পর্কের বিষয়গুলো কেমন হবে, তা জানার জন্য নতুন গবেষণা দরকার বলে মনে করছেন গবেষকরা। সেই সঙ্গে বলা হয়েছে, এই গবেষণা পরবর্তীতে করোনা সম্পর্কিত শারীরিক সম্পর্কের বিষয়ে গবেষণার পথ উন্মোচন করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) চীফ মেডিকেল অফিসার জন ব্রুকস মনে করেন, এটা চমৎকার ফল। তবে তিনি মনে করেন, এর অর্থ এই নয় যে শুক্রানু সংক্রামক হয়ে উঠবে।

তিনি আরও বলেন, যখন আমরা সবখানে এই ভাইরাসটি দেখছি, শরীরের বিভিন্নখানেই এর উপস্থিতি রয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তির অবস্থানস্থলেও এই ভাইরাস পাওয়া যাচ্ছে। সে কারণে এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা কঠিন।

সিডিসির গবেষকরা মনে করেন, আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি থেকে ছড়ানো ড্রপলেটের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস অন্যদের শরীরে সংক্রমণ ঘটায়। শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে আরো নির্দিষ্ট করে বললে শুক্রানুর মাধ্যমে করোনা সংক্রমণের প্রমাণ তারা পাননি।