অনাগত সন্তানকে ‘মন খারাপের’ চিঠি নায়িকা শুভশ্রীর

অনাগত সন্তানকে ‘মন খারাপের’ চিঠি নায়িকা শুভশ্রীরকদিন আগেই মা হওয়ার সুসংবাদ দিযেছেন টালিউটের বিউটি কুইন শুভশ্রী গাঙ্গুলি। রাজ-শুভশ্রী এমন সময় এই সুসংবাদ দিলেন যখন কোভিড-১৯ মহামারীতে সারা বিশ্ব টালমাটাল।ভারতে প্রতিদিন শয়ে শয়ে মানুষ মারা যাচ্ছেন।
এই করোনার মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে লণ্ডভণ্ড পশ্চিমবঙ্গ।শুভশ্রীর আশঙ্কা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো এক অন্য কলকাতাকেই দেখবে! সেই আবেগকে সম্বল করেই শুভশ্রী অনাগত সন্তানের উদ্দেশে চিঠি লিখলেন। জানালেন, মন খারাপের নানান কথা।
চারপাশের পরিস্থিতি দেখে কিছুতেই মন শান্ত রাখতে পারছেন না শুভশ্রী। মনের কথা ভাগ করে নিলেন চিঠিতে।
অভিনেত্রী লেখেন, মনটা বড্ড খারাপ, সারাক্ষণ চেষ্টা করছি মনটাকে ঠিক রাখার, কিন্তু কিছুতেই পারছি না। সবাই বলে প্রেগনেন্ট হলে হাসিখুশি থাকতে হয়, কী করে থাকব বল তো! তোর কথা ভেবেই সব ভোলার চেষ্টা করছি। কিন্তু এত ধ্বংসস্তূপ আগে কখনো দেখিনি যে… কান্না চেপে রাখতে পারছি না। নিজের মনটাকে বোঝানোর চেষ্টা করছি যে, না না এখন মন খারাপ করলে চলে না! ভাবছি তুই কী ভাববি… কিন্তু নিজেকে আটকে রাখতে পারছি না।
আম্পানের ভয়াবহতার কথা তুলে ধরে শুভশ্রী লেখেন, জানিস কত হাজার হাজার গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে… সেগুলোকে আর ফেরানো যাবে না। ওই গাছগুলোকে যে এত ভালোবাসতাম আগে কখনো অনুভব করিনি… তোকে গল্ফগ্রীন, সাউদার্ন এভিনিউ, ময়দানের সবুজ দৃশ্য আর দেখানো হলো না। সেই বড় বড় গাছগুলো যেগুলো তো শুধু গাছ ছিল না। ছিল হাজার হাজার পাখির বাসা। তুই দেখতে পেলি না! ৮২ হাজার ঘর ভেঙে গেল এই ঝড়ে।
‘মাঝে চিৎকার করে প্রকৃতিকে বলতে ইচ্ছে করছে.. আর কত? আবার ভয়ও লাগছে। পাছে, পাল্টা প্রশ্ন আসে! পৃথিবীর হৃৎপিন্ড যখন দাউ দাউ করে জ্বলছিল, কোথায় ছিল তোদের মনুষ্যত্ব? প্রকৃতির কোল কেটে যখন ফ্ল্যাটবাড়ি বানাস, তখন তোদের বিবেকে বাঁধে না? জঙ্গলের মাঝেই রেল লাইন পাতিস, আর তাতেই কাটা পড়ে কত হাতির দল। কটা প্রশ্ন করিস তোরা মানুষরা? ….. ছি-ছি সত্যিই কোনো উত্তর দিতে পারব না। তার জন্যেই চুপ করে আছি’-যোগ করেন নায়িকা।