ইফতার বাজারে নেই আগের সেই জৌলুস

পবিত্র রমজান মাসে ইফতারের বাজার সরগরম থাকবে এটাই স্বাভাবিক ও চিরাচরিত। তবে এ বছরের চিত্র সম্পূর্ণই ভিন্ন, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যেও ইফতারের দোকানগুলো খুলে দেয়া হলেও দেখা যাচ্ছে না অন্যান্য বছরের সেই স্বাভাবিক চিত্র। দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতিও খুবই কম। লকডাউন ও অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকায় জমেনি ইফতার উৎসব। অন্যদিকে মসজিদে মসজিদে যে ইফতার আয়োজন হতো- এবার তা-ও হচ্ছে না।

শনিবার (২ মে) যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, পল্টন, ফার্মগেট, মিরপুর, ধানমন্ডি, নিউ মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, বেইলি রোড, শাহবাগসহ বেশকিছু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সীমিত আকারে কিছু রেস্তোরাঁয় ইফতার বিক্রি হচ্ছে। করোনার কারণে দোকানগুলোতে ভিড় নেই। বেশির ভাগ দোকানে ছোলা, বুন্দিয়া, জিলাপী, চপ, পিয়াজু, হালুয়া, পোলা, নিমকি, চিড়াভাজা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। নেই কোনও বাহারী ইফতারের আইটেম।

যাত্রাবাড়ীর হাজী রোস্তোরাঁ মালিক কবির হোসেন ও রায়েরবাগ ডায়মন্ড হোটেল অ্যান্ড রোস্তোরাঁর প্রোপাইটার হাজী আব্দুর রহমান ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ইফতার বিক্রির অনুমতি দিয়েছে, তাই হোটেল খুলেছি। প্রথম তিন রোজায় হোটেল বন্ধ ছিল বলে ক্রেতা কম। দোকানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ইফতারি বিক্রি করা হচ্ছে। তবে সেটিও খুব সামান্য।’

এদিকে করোনার কারণে রোস্তোরাঁ বন্ধ করার কারণে হোটেল বয়, রাধুনিসহ রোস্তোরাঁর কর্মচারীরা সব ছুটিতে। 

ইফতার কিনতে আসা রায়েরবাগের গোলাম রাব্বানী নামে এক তরুণ বলেন, ‘করোনার কারণে বাসা থেকে বের হওয়া প্রায় বন্ধ। আজ থেকে ইফতার বিক্রি শুরু হয়েছে শুনে কিনতে বের হয়েছি। কোথাও তেমন ভিড় নেই দেখে ভাল লাগছে।’

মোহাম্মদপুরের বিসমিল্লাহ হোটেলের ইফতার বিক্রেতা সজীব রায়হান বলেন, ‘১০ বছর ধরে রমজান মাসে ইফতারি বিক্রি করি। ২০ থেকে ৩০ আইটেম সাজিয়ে বসলেও আজ ৬ আইটেম নিয়ে বসেছি। পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন। দোকানের সামনে বার বার ঘুরছেন এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিক্রি করতে বলছেন।’

ইফতারি কিনতে আসা আহমদুল্লাহ বলেন, ‘মেসে থাকি। বুয়া দেশে গেছেন। বাসায় ইফতারি বানানোর মতো কেউ নেই। তাই ইফতারি কিনতে এলাম।’

কাবাব কিনতে আসা আফজাল হোসেন ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘ইফতারে কাবাব খেতে আমার ভালো লাগে। তাই এখানে কাবাব আর হালিম কিনতে আসলাম। পরিবারের সঙ্গে কাবাব আর হলিম দিয়ে ইফতার করবো। করোনার কারণে ঘর থেকে একদম প্রয়োজন ছাড়া বের হই না। বুথ থেকে টাকা তুলতে এসেছিলাম, ফেরার পথে ইফতার কিনে নিয়ে যাচ্ছি।’

মিরপুর ১০ নম্বরের ফরুক রেস্টুরেন্টের মালিক মো. ফারুক বলেন, ‘ইফতারির বেচাকেনা নেই। বেচাকেনা না থাকলে দোকানে ভিড় হবে কীভাবে? আসরের নামাজের পরেও দোকানে নেই ভিড়, ভাবা যায়? গত বছর এই সময় ইফতারের বিক্রি করে দম ফেলার সময় পায়নি। আর এখন রাস্তায় মানুষজন নাই। করোনার কারণে কী হয়ে গেলো?’ 

শান্তিনগর মোড়ে বেইলি বারবি কিউ রেস্তোরাঁর কর্মচারী বেলাল হোসেন জানান, প্রতি বছর এ সময় ক্রেতাদের তিল ধারণের ঠাঁই থাকে না।  কিন্তু এবার কাস্টমারই নাই।  বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত কিছু কাস্টমার থাকলেও ৫ টার পর ক্রেতা শূন্য।

এদিকে বেইলি রোডের আরেক রেস্তোরাঁতেও দেখা যায় একই চিত্র। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ ক্রেতাদের সুরক্ষার জন্য সামাজিক দূরত্ব নির্ধারণ, তাপমাত্রা মাপা ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রেখেছে।

বেইলি রোডে বিভিন্ন দোকানে জিলাপি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি। স্পেশাল হালিম পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ১ হাজার টাকায়।  চিকেন আস্ত রোস্ট ৬০০ টাকা, মার্টন ভুনা ১২৫০ টাকা, মার্টন লেগ রোস্ট প্রতি পিস ৫০০ টাকা, চিকেন রেশমি কাবাব ২৪০ টাকা। এখানে প্রতি কেজি গরুর কিমা ৬৫০ টাকা, গরুর মগজ ৮০০ টাকা, চিকেন ঝাল ফ্রাই ৬৫০ টাকা, জাম্প রোস্ট ৫০০ টাকা, খাসির রোস্ট ৩৫০ টাকা, দেশি মুরগি প্রতি পিস ২০০ টাকা, গরুর সুতি কাবাব প্রতি কেজি ৭০০ টাকা, চিকেন ললি ১০০ টাকা, বিফমিনি কাবাব ৬০ টাকা, চিকেন সিংগার স্টিক ৪০ টাকা, আলু চপ প্রতি পিস ১০ টাকা, বেগুনি ও পিঁয়াজু ১০ টাকা। এছাড়া ইফতারির বিভিন্ন দোকানে পাওয়া যাচ্ছে নানা রকমের ইফতারের প্যাকেজ।

বেইলি রোডে ইফতার কিনতে আশা সুরমা আক্তার ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘এবার বাসায় সব আয়োজন করেছি। বোরহানি ও জিলাপি কিনতে আসলাম। বাচ্চাদের পছন্দ। গাড়ি নিয়ে বের হতে পারি না, তাই আসাও হয় না।’