অবশেষে প্রকাশ্যে আসল আজহারীর গাড়ির রহস্য!

আলোচনা সমালোচনা ও বিতর্কের মধ্যেই হঠাৎ করে ‘তাফসিরুল কোরআন’- এর মাহফিল মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করে গবেষণার কাজে মালয়েশিয়া চলে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আলোচিত ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী।

সাম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে আজহারীর গাড়ি চালানোর কিছু দৃশ্য। ছবিতে দেখা গেছে, মিজানুর রহমান আজহারী একটি ‘বেন্টলি’ গাড়ি চালাচ্ছেন যার বাজার মূল্য কমপক্ষে ৫ কোটি টাকা।

এদিকে এই ছবি ভাইরাল হওয়ার পর তার ভক্তদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন জাগলো আজহারীর কি সত্যিই ৫ কোটি টাকার গাড়ির মলিক। ভক্তদের সকল সন্দেহের চোখ আর নিন্দুকের নিন্দার অবশান হলো আজহারীর এক মেসেঞ্জার বার্তায়।

এক ভক্তের গাড়ি সক্রান্ত প্রশ্নে মিজানুর রহমান আজহারী ব্যাক্তিগত ফেসবুক মেসেঞ্জারে দেওয়া প্রতি উত্তর পাঠকের সমনে হুবহুব তুলে ধরলাম। আজহারী বলেন, ‘সিংগাপুর বিজনেস চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট জনাব শহীদুজ্জামান টরিক ভাইয়ের গাড়ি এটা। গত বছর সিংগাপুরে বাংলাদেশি এলিট সোসাইটির একটি সোশ্যাল গেদারিং এ আলোচনা রাখবার জন্য তারা আমাকে ইনভাইট করেছিল। পাঁচ দিনের সফরে তখন সিংগাপুর গিয়েছিলাম। ওই সফরে শখ করে সিংগাপুর শহরে টরিক ভাইয়ের গাড়িটি ড্রাইভ করেছিলাম। মিথ্যাবাদীরা এটাকে এখন আমার গাড়ি বানিয়ে দিয়েছে। মিথ্যাচার যেন এদেশের রন্ধে রন্ধে।’

এদিকে আজহারীর বিভিন্ন মাহফিলের আলোচনার আংশিক বক্তব্য ইউটিউবে প্রকাশ করে ব্যাপক বিতর্ক ছড়িয়েছেন ‘নাইদরেইনস’ নামে এক ইউটিউবার। আজহারীর গাড়ি ড্রাইভিংয়ের ছবি প্রকাশ হলো পুনরায় একই আইডি থেকে পোস্ট করে প্রশ্ন ছোড়া হচ্ছে, ইসলামের একজন দাঈ হয়ে মালয়েশিয়ায় কি করে এতো দামি গাড়ি কেনেন আজহারী? মাহফিলে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা:) ও সাহাবাদের ত্যাগি ও সাদাসিধে জীবনের কথা বলে সেখানে কি তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন?

সমালোচনাকারীরা বলছেন, দেশে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেই মালয়েশিয়ায় চলে গেছেন আজহারী।

বিষয়টি আজহারীর ব্যক্তিগত বলে অনেকেই বলছেন, মাহফিল মঞ্চে তিনি কি বলেছেন তা নিয়া কথা না বলে তার সম্পত্তি, আয়-ব্যয় বা তিনি কি গাড়ি চালাবেন তা নিয়ে কথা না বলাই উত্তম। এটা পুরোটাই তার ব্যক্তিগত ব্যাপার।

উল্লেখ্য, মিজানুর রহমান আজহারী মালয়েশিয়ায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন।
ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, মালয়েশিয়ায় মিজানুর রহমান আজহারীর নিজের কোনো গাড়ি নেই। সেখানে তাকে ভাড়ায় গাড়ি চালাতে দেখেছেন তারা।

আজহারীকে গাড়ি ভাড়া নিওয়া হয় কেন প্রশ্নে নাইমুল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় পর্যাপ্ত গণপরিবহন থাকলেও দূরবর্তী কোনো স্থানে বা ভ্রমণে বের হলে অথবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজে অনেকেই গাড়ি ভাড়া নেন। আমিও এই কাজটা মাঝেমধ্যে করি। তিনিও হয়ত এমনটাই করেছেন।’