হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়ে কানাডায় পাড়ি দিয়েছে দম্পতি

বিভিন্ন ব্যাংক থেকে অন্তত ১ হাজার কোটি টাকা নিয়ে কানাডায় পাড়ি জমিয়েছেন মিশম্যাক গ্রুপের মালিক মিজানুর রহমান শাহীন ও স্ত্রী কামরুন নাহার সাখী। শাহীনের দুই ভাই মুজিবুর রহমান মিলন ও হুমায়ুন কবিরও কয়েকশ কোটি টাকা নিয়ে সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমিয়েছেন। 

গণমাধ্যমের খবর, সম্প্রতি সময়ে ব্যাংকের ঋণ খেলাপিদের তালিকা বাড়ছে। তার অনেকেই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। হাজার হাজার কোটি টাকা মেরে তারা এখন লাপাত্তা। যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, দুবাই, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ উন্নতি বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছেন বিনা বাধায়। করছেন রাজকীয় জীবন-যাপন। দেশের টাকা লুট করে বিদেশে পাড়ি জমানোর তালিকায় উঠে এলো শাহীন ও সাখী দম্পতির নাম।

চট্টগ্রামে জাহাজভাঙার আমদানিকারক মিশম্যাক গ্রুপের অনেক এখন বন্ধ। যেগুলো চালু আছে তা কেউ দখলে নিয়ে আর কিছু বিদেশে থেকে শাহীন ও তার ভাই দেখাশোনা করছেন। শীর্ষ ঋণ খেলাপির তালিকায় থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা চলমান। 

শাহীন ও মিলনের ৮টি প্রতিষ্ঠানকে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো-সিআইবি। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে-মিশম্যাক শিপ ব্রেকিং, ফয়জুন শিপ ব্রেকিং, বিআর স্টিল মিলস, মুহিব স্টিল অ্যান্ড শিপ রি-সাইক্লিং, এমআরএম এন্টারপ্রাইজ, এমআর শিপিং লাইনস, আহমেদ মোস্তফা স্টিল ইন্ডাস্ট্রি ও সানমার হোটেলস লিমিটেড। 

তাদের সবচেয়ে বেশি ২৯৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক। এছাড়া অগ্রণী ব্যাংক দিয়েছে ২২৩ কোটি ২০ লাখ, ব্যাংক এশিয়া ১৫১ কোটি ৩৭ লাখ, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ৮৫ কোটি ৫৭ লাখ, ইস্টার্ন ব্যাংক ৪৮ কোটি, প্রিমিয়ার ব্যাংক ৪৭ কোটি ৭ লাখ, ঢাকা ব্যাংক ২৩ কোটি ৪৫ লাখ, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ৭ কোটি ২০ লাখ ও যমুনা ব্যাংক দিয়েছে ৫ কোটি ১১ লাখ টাকা। ঋণের বেশিরভাগই দেয়া হয়েছে বিভিন্ন আমদানি দায়ের বিপরীতে।

কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশি ও দুদক কর্মকর্তারা জানান, শাহীন-সাখী দম্পতি এখন কানাডা প্রবাসী। তারা কানাডার টোরন্টতে থাকেন। তার ভাই মিলন আছেন সিঙ্গাপুরে। সেখান থেকে পুরনো জাহাজ কিনে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন এবং দেশের ব্যবসা দেখাশোনা করেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদক কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম মহানগরীর চকবাজার এলাকার মৃত বজলুর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান শাহীন। তিনি ২০০৯-১০ সালের দিকে ইস্পাত, শিপ ব্রেকিং ও আবাসন ব্যবসার নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তারা তিন ভাই মিশম্যাক গ্রুপের মালিক। তারা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেন। সেটা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে ২০১২ সালের পর অর্থঋণ আদালতে মামলা শুরু করে বিভিন্ন ব্যাংক। প্রথম দিকে তারা ঋণগুলো পুনঃতফসিল করে আরও ঋণ নেন। ওইসব টাকা কানাডা, দুবাই ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করে বিদেশে আত্মগোপন করে।

দুদকের একজন পরিচালক বলেন, ‘অর্থ পাচার আইনের বিদেশে অর্থ পাচারের তদন্ত দুদকের তফসিলভুক্ত নয় বরং এটা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ করবে। দুদক তফসিলভুক্ত অপরাধের তদন্ত হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে বেশকিছু আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি দুদক চেয়ারম্যান নিজেই বলেছেন যারা অর্থপাচার করে বিদেশে পালিয়ে গেছেন তাদেরকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করা হবে।’