চেয়ার হারানোর ভয়ে জাতীয় ঐক্য করছে না সরকার: ভিপি নুর

করোনা ভাইরাসের প্রদুর্ভাবে সারাদেশে দুর্যোগ মোকাবেলায় সকল রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। অথচ দেশের এই ক্রাইসিস মুহূর্তে সরকার চেয়ার হারানোর ভয়ে জাতীয় ঐক্য করছে না।

রবিবার (৩ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘দেশের বর্তমানে যে অবস্থা তা সবেমাত্র শুরু আমাদের আরও ভয়বহ পরিস্থিতির অপেক্ষা করতে হবে।’

ভিপি নুর বলেন, ‘সরকার শুরু থেকে বলেছে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সকল ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। কিন্তু দেখা গেছে প্রাইমারী যে নিরাপত্তা দরকার তাও পায়নি ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। পিপিই’র কথা বাদ দিলাম তারা মাস্ক পর্যন্ত পায়নি। তাদের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কন্ফারেন্সে নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জনের কথার মাধ্যমে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। ছুটি ঘোষণার পর মানুষও 
খুশিতে উৎফুল্ল হয়ে বাড়ি চলে গেছেন। একদিকে দেশে লকডাউন চলছে অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে মানুষ সামাজিক দূরত্ব মানছে না। গা ঘেঁষে ঘেঁষে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে মিছিল দিয়ে বেচা-বিক্রি করছেন।

গার্মেন্টসের চিত্র তুলে ধরে ভিপি নুর বলেন, গার্মেন্টেস খোলা নিয়ে সরকারের দ্বিমুখী নীতি দেখা গেছে। গার্মেন্টেস খুলতেছে অথচ আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানেন না। তিনি জানেন না দোকান বন্ধ রাখা ২টা থেকে ৪টা করা হয়েছে। এটা চরম সমন্বয়হীনতার ফল।

নুর বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও নির্বাচিত সরকার ব্যবস্থা না থাকার করণে জনগণের কথাকে মূল্য দেওয়া হচ্ছে না। বিভিন্ন বিশিষ্টজনদের কথাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। এখন একজন ব্যক্তিকেই হাইলাইট করা হচ্ছে। যেকোনো মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপে প্রধানমমন্ত্রী কি বলেন সেদিকে সকলে চেয়ে থাকেন। তাহলে এতোগুলো মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রীদের কি দরকার?

ভিপি নুর বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি বিভিন্ন জেলার চিত্র তুলে ধরতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বক্তব্য দিতে বললে তাদের দেওয়া পাচঁ মিনিটের বক্তব্যের তিন মিনিটই থাকে প্রধনমন্ত্রীর গুনগান গাইতে। তারা একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে স্টেটকাট কথা বলতে পারেন না।

প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান করে ভিপি নুর বলেন, ‘এখনও সময় আছে দেশ যাতে দুর্যোগে-দুর্ভোগের দিকে না জায় সে কথা বিবেচনা করে সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে অনলাইন কন্ফারেন্সে অথবা যেভাবে হোক একটা জাতীয় ঐক্যের গড়ে তুলুন।