শর্মিলা বনাম তারেক

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে জিয়া পরিবারের মধ্যে গৃহদাহ দেখা দিয়েছে। বেগম জিয়া প্যারোল নেবেন কি নেবেন না, এ নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে তার পরিবার। খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান সিঁথি যেকোনোভাবে তার শাশুড়ির মুক্তির পক্ষে। গত এক সপ্তাহ ধতে তিনি অত্যন্ত সরব বলে জানা গেছে। প্যারোলের উদ্যোগ নেওয়া এবং বেগম জিয়াকে এ ব্যাপারে বোঝানোর ক্ষেত্রে শর্মিলা রহমানই মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন বলে জানা গেছে।
শর্মিলা রহমান গত সপ্তাহে দেশে এসেই বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তার দেশে আসা এবং বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের মূল উদ্দেশ্য ছিল খালেদা জিয়া যেন প্যারোলের ব্যাপারে রাজি হয়। গতকাল শুক্রবার বেগম জিয়ার ভাই-বোনসহ অন্যান্য আত্মীয়রা তার সঙ্গে দেখা করেছেন। এ সময় কোকোর শাশুড়িরও বেগম জিয়ার সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল। কিন্তু তালিকায় তার নাম না থাকায় তাকে সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হয়নি। সাক্ষাৎ করতে দেওয়া না হলেও কোকোর শাশুড়ি শর্মিলা রহমানের মা-ই প্যারোলের ব্যাপারে সমস্ত যোগাযোগ করছেন বলে বিএনপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে, প্যারোলের বিরুদ্ধে পরিস্কার অবস্থান গ্রহণ করেছেন তারেক জিয়া। গতকাল রাতেই তিনি বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। বেগম জিয়াকে কোনোভাবেই প্যারোলে মুক্তি নয়, বরং আইনগত বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে আইন প্রক্রিয়ায় তার মুক্তি অথবা আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্তির বিষয়টি জোরালো করার জন্য তারেক নির্দেশ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে জিয়া পরবার খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে স্পষ্ট দ্বিধা বিভক্ত হয়ে গেল।
তবে খালেদা জিয়ার সঙ্গে যারা সাক্ষাৎ করছেন, তারা বলেছেন যে, খালেদা জিয়া এখন ছোট ছেলে কোকোর স্ত্রী শর্মিলার ওপরে আস্থাশীল। তারেকের ওপর তিনি ততটা আস্থাশীল নয়। কারণ তারেক তার মুক্তির ব্যাপারে আগ্রহী নয়। তারেক তাঁর মুক্তি দিতে পারবে বা মুক্তির ব্যা[আরে চেষ্টা করবে এ বিশ্বাস খেলেদা জিয়ার ভেতর থেকে উবে গেছে। বরং তিনি মনে করছেন, তাকে দীর্ঘদিন জেলে রাখার বিষয়ে যে চক্রটি কাজ করছে তার মধ্যে তারেক এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জড়িত।
তবে বিএনপির অনেক নেতাই মনে করছেন যে। এ সমস্ত বিরোধ বা গৃহবিবাদের খবর সঠিক নয়। বরং বেগম জিয়ার পরিবার ঐক্যবদ্ধ আছে। শেষ পর্যন্ত বেগম জিয়া প্যারোল নেবেন কিনা সেতা কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন না। বরং তিনি যেটা নিজের জন্য ভালো মনে করবেন যেই অনুযায়ী তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।