করোনায় সাড়ে চার মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু

ও ছিল খুবই মায়াবী।তার সে সুন্দর হাসিমাখা মুখ দেখলে মনে হতো যেন এক ছোট্ট দেবদূত। সারাক্ষণ আমাদেরকে ব্যস্ত করে রাখতো। সারাক্ষণ জে নাটালিকে ঘিরে থাকতো সবাই। জে নাটালি যা যা চাইতো, সবই পেতো।’ যুক্তরাষ্ট্রে করোনা সংক্রমণের কারণে একমাত্র নাতনিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়া দাদি ওয়ান্ডা লা সান্তা এভাবেই এনবিসি নিউজের কাছে স্মৃতিচারণ করছিলেন। করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রায় এক মাস ধরে হাসপাতালে থাকার পর গত ২০ এপ্রিল প্রাণ হারায় সাড়ে চার মাস বয়সী শিশু জে নাটালি। তার বাবা নিউ ইয়র্ক সিটিতে দমকলকর্মী হিসেবে নিয়োজিত আছেন।

মা বাবার সঙ্গে নাটালি
মা বাবার সঙ্গে নাটালি

গত নভেম্বরে জেরেল লা সান্তা ও লিন্ডসে লা সান্তা দম্পতির ঘর আলো করে জন্ম নেয় জে নাটালি। তদের প্রথম সন্তান এটি। একইভাবে নাটালির জন্মের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো দাদি হন ওয়ান্ডা লা সান্তা। গত ২১ মার্চ জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর জে নাটালিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওয়ান্ডা লা জানান, জন্মগতভাবে নাটালির হৃদপিণ্ডে ত্রুটি থাকায় জ্বর আসার পর আর একদমই দেরি করা হয়নি। হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। প্রথমে তার শরীরে করোনা পরীক্ষা করা হয়। তবে তখন তার শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া যায়নি।

দাদি ওয়ান্ডা লা সান্তা এবং ওই শিশুর মা-বাবার শরীরেও করোনা পাওয়া যায়নি।প্রায় এক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকার পরও জে নাটালির শারীরিক অবস্থার কোনও উন্নতি না হওয়ায় আবার করোনা পরীক্ষা করা হয়। দ্বিতীয়বারের পরীক্ষায় চার মাস বয়সী ওই শিশুর শরীরে শনাক্ত হয় করোনা।

‘আমরা জানি না কিভাবে সে করোনায় আক্রান্ত হলো।’ বলেন ওয়ান্ডা। এনবিসি নিউজকে তিনি জানান, নাটালি ১৬ দিন ধরে হাসপাতালে ছিল।করোনার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলো সে। হৃদপিণ্ডের সমস্যা থাকায় শুরু থেকেই চিকিৎসকরা তাকে কোমায় রেখেছিলেন। এক সপ্তাহ কোমায় থাকার পর তার অবস্থার উন্নতি দেখা গিয়েছিল। স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্টও তেমনটাই বলছিলো। ‘জ্বরকে মোকাবিলা করতে পারছিলো ও। মনে হচ্ছিলো জ্বর ভালো হয়ে যাচ্ছে। তার ফুসফুসও পরিষ্কার হতে শুরু করেছিল।’ বলেন ওয়ান্ডা।

২০ এপ্রিল নাটালির পরিবারের সঙ্গে বৈঠক করেন চিকিৎসকরা। সবাই জানতেন নাটালি ঠিক হয়ে যাচ্ছে। তবে মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর সবকিছু ওলটপালট হতে শুরু করলো। তার স্পন্দন কমে যেতে লাগলো। তার শ্বাস-প্রশ্বাস কমে যেতে লাগলো। আর এরপরই বন্ধ হয়ে যায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া। ২০ এপ্রিলই মৃত্যু হয় নাটালির। আর মাত্র এক সপ্তাহ পরেই ৫ মাস পূর্ণ হতো তার।

ওয়ান্ডা বলেন, তিনি সংবাদমাধ্যমে এ কথাগুলো জানাচ্ছেন কারণ তিনি চান সবাই করোনাভাইরাসকে গুরুত্ব সহকারে নিক। ‘আমি চাই মানুষ বুঝুক ও জানুক যে বিষয়টা গুরুতর। এটা কোনও তামাশা নয়।’