এই পরিবারটি রাখবে জীবনের প্রথম রোজা!

স্বপরিবারে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হয়েছে কুলাউড়া উপজেলার এই পরিবারটি। নিজ ধর্ম ত্যাগ করার পর মাঝে মাঝে হিন্দুপাড়ার প্রতিবেশি কেউ কেউ হাসাহাসি, কেউ কেউ গালাগালি করেন। কিন্তু মুসলমানদের আন্তরিকতায় নিরাপদে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পালন করছেন। এমনকি রোজা রাখার জন্যও মানসিকভাবে প্রস্তুত তারা।

গেল বছরের ২৪ মার্চ স্বপরিবারে ধর্মান্তরিত হন কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা নিতাই দাস। হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ধর্মান্তরিত হওয়ার পর নিতাই দাসের নাম পরিবর্তন করে ইব্রাহিম, স্ত্রীর নাম রহিমা বেগম, ছেলের নাম ইসমাইল আলী এবং মেয়ের নাম কুলসুমা বেগম ও ফাতেমা বেগম রাখা হয়।

সরেজমিনে উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে গলে স্থানীয়রা জানান, ওই পরিবারটি হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করার পর কৃষ্ণপুর গ্রাম ছেড়ে দিয়ে আশ্রয় নেন ভাটেরা স্টেশনের পরিত্যক্ত রেলওয়ে কোয়ার্টারে। পরিত্যক্ত এসব কোয়ার্টার বসবাসের উপযোগী না হলেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এখানেই দিনাতিপাত করছেন পরিবারটি। 

নওমুসলিম ইব্রাহিম জানান, সবার আন্তরিক সহযোগিতায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে আল্লাহর রহমতে নিরাপদে এবং ভালোই আছেন। রোজা রাখার জন্য দানশীল ব্যক্তিবর্গ খাবারসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। রেলওয়ে কোয়ার্টারে বসবাসে একটু কষ্ট হলেও যতক্ষণ বিকল্প ব্যবস্থা না হচ্ছে ততক্ষণ এখানেই থাকতে হবে।

ভাটেরা স্টেশন জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. হোসাইন আহমদ জানান, নওমুসলিম ইব্রাহিম ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর থেকে মসজিদে জামায়াতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের চেষ্টা করেন। তাকে অত্র এলাকার সবাই একজন ভালো মানুষ হিসেবেই চিনেন। তবে বয়সের কারণে তিনি এখন কিছুটা অসুস্থ্য।

ভাটেরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম জানান, এই পরিবারটিকে তিনি অনেক আগ থেকেই সহযোগিতা করে আসছেন। তাছাড়া দেশ বিদেশ থেকে বিচ্ছিন্নভাবে তাদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। এলাকার মানুষ তাদের নিরাপদ বসবাসের ব্যাপারে সচেতন। সবার সহযোগিতামূলক মনোভাব রয়েছে।