দ্য কিউরিয়াস কেইস অফ বেঞ্জামিন বাটন-উপভোগ এবং উপলব্ধির সিনেমা

তিন ক্যাটাগরিতে অস্কার জয়ী এই সিনেমাটির স্ক্রিপ্ট করা হয় F. Scott Fitzgeralad এর ছোট গল্প থেকে। অদ্ভুত এক জীবন পেয়েছে বেঞ্জামিন। অদ্ভুত দর্শন এই শিশুটির জন্মের সময় মা মারা যায়। শিশুটির চেহারা ছিল বুড়োদের মত। এই শিশুটি আর দশটি শিশুর মত নয়। তার জীবনের সময় ঘড়িটা চলে উল্টো পাশে। সময় স্রোত যতই গড়ায়, শিশু বেঞ্জামিনের শারীরিক গঠন ততই ৭৮ বছরের বুড়ো থেকে উল্টো দিকে চলতে থাকে। যার সমাপ্তি হয় ৭৮ বছর বয়সে অবুঝ শিশু হিসেবে মৃত্যু বরনের মধ্য দিয়ে।
শারীরিক গঠন উল্টো হলেও মানসিক গঠন ঠিক ছিল। অর্থাৎ তাকে দেখতে যখন ৬০ বছরের মানুষের মত লাগে, তখন তার চিন্তা ভাবনা ১৮ বছরের যুবকের মত। গায়েও একই শক্তি। এই মুভি শুধু বেঞ্জামিন বাটনের অদ্ভুত জীবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বেঞ্জামিনের অদ্ভুতুরে জীবনের সাথে সাথে সময়কে ভ্রমণ করে চলে। যে সময়ের শুরু হয় ১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষের দিন থেকে। আসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের খন্ডচিত্রও।
প্রেম আসে বেঞ্জামিনের জীবনেও। প্রেমিকা ডেইজি, তারই ছোটবেলার খেলার সাথী। এটা এমন এক প্রেম, যেখানে বেঞ্জামিন বুড়ো থেকে যুবক হয়, আর ডেইজি কিশোরী-যুবতী থেকে বুড়ি। একদম ছোট থেকেই জীবনকে সহজভাবে নিতে শেখে বেঞ্জামিন। জীবন এমন একটা ব্যাপার, যেখানে প্রিয় মানুষগুলোক, প্রিয় মুহূর্তগুলো চলে যায়- আর সেটাকে মেনে নিতে হয়, এটাই জীবনের চিরন্তন সত্য। মেনে নেয়াটাই জীবন।
আর এই অমোঘ সত্যকে মেনে নিয়ে স্ত্রী-কন্যাকে ছেড়ে দূর দেশে চলে যায় বেঞ্জামিন। কিন্তু মেনে নেয়ার কথা বললেই কি আর মানা যায়! তাহলে মানুষ আর রোবটের মধ্যে তফাৎ থাকলো কী! যে কারণে বেঞ্জামিনকে ফিরে আসতে হয়। ফিরে আসতে হয় স্ত্রীর কোলে অবুঝ সন্তান হয়ে। এই সিনেমার আইডিয়াটা দেখার পর আমি উপলব্ধি করছি, ব্যতিক্রমী আইডিয়ার কোন শেষ নাই। মানুষের কল্পনার কোন লিমিটেশন নাই। সর্বোপরি, সিনেমার কোন সুনির্দিষ্ট ফ্রেম নাই। বেঞ্জামিন বাটন শুধু উপলব্ধি বা উপভোগের সিনেমা নয়। যারা ক্রিয়েটিভ চিন্তা ভাবনা করেন, তাদের চিন্তা ভাবনাকে চ্যালেঞ্জ জানানোরও সিনেমা বেঞ্জামিন বাটন।