কিম জং উন অচেতন অবস্থায়: জাপানি সংবাদমাধ্যমের দাবি

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের স্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে যে ধারণা করা হচ্ছিল তার চেয়েও মারাত্মক বলে খবর বেরিয়েছে। এই সপ্তাহে হার্ট অপারেশনের পর তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে খবর বের হয়। তবে তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। এবার জাপানের একটি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, বর্তমানে অচেতন হয়ে পড়ে আছেন উত্তর কোরীয় নেতা। কিমের চিকিৎসায় নিয়োজিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডাক্তারের বরাতে জাপানের ম্যাগাজিন সুখান গেন্দাই জানিয়েছে, এপ্রিলে এক দুর্গম এলাকা সফরে গিয়ে পড়ে যান তিনি। ওই ঘটনার পর তার হার্টে সার্জারির প্রয়োজন পড়ে।

সম্প্রতি স্থানীয় পত্রিকা ডেইলি এনকে অসমর্থিত সূত্রের বরাতে জানিয়েছিল– গত বছরের আগস্ট থেকেই কিম হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন। পায়েকতু পাহাড় থেকে ঘুরে আসার পর থেকে তার সেই সমস্যা আরও প্রকট হয়। এ সংবাদের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যমে কিমের অসুস্থতার প্রসঙ্গ আলোচনায় আসে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করেছে, উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জন উনকে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ দিতে দেশটিতে একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল পাঠিয়েছে চীন।
তবে এবারে জাপানি সংবাদমাধ্যম সুখান গেন্দাই কিমের হৃদযন্ত্রের অপারেশনের বিস্তারিত বর্ণনা হাজির করেছে। ওই খবরে বলা হয়েছে, অপারেশনের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তাররা তাকে অজ্ঞান করেননি। আর অপারেশনের সময় তিনি প্রচণ্ড নার্ভাস হয়ে পড়েন। আর সেই কারণে অপারেশনে বিলম্ব হওয়ায় এক পর্যায়ে অচেতন অবস্থায় চলে যান কিম।
কিম জং উনের স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে গুঞ্জনের মধ্যে নিজ দেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমেও অনুপস্থিত থাকার কথাও সামনে আসে। বুধবার দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা (কেসিএনএ) খেলাধুলা, মালবেরি পেকে যাওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে খবর প্রকাশ হলেও কিম জং উন কোথায় আছেন সেই বিষয়ে কোনও খবর পাওয়া যায়নি। রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র রোদং সিনমুন-এ বুধবার স্বনির্ভর অর্থনীতি ও করোনাভাইরাস বিরোধী পদক্ষেপ সংক্রান্ত প্রবন্ধ ছাপা হয়েছে। তবে সেখানেও কিম জং উনের কোনও খবর প্রকাশ হয়নি।

শনিবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক লিয়াজো বিভাগের শীর্ষ নেতা বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) উত্তর কোরিয়ার উদ্দেশে বেইজিং ত্যাগ করেন। তার সঙ্গে রয়েছেন একদল চিকিৎসক। চীনের পররাষ্ট্র বিভাগের এ নেতা উত্তর কোরিয়া সংক্রান্ত বিষয়ের দেখভাল করেন। রয়টার্স দাবি করেছে, চীনের ওই সূত্র এ সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য দিতে রাজি হয়নি। এমনকি তাৎক্ষণিক চেষ্টায় লিয়াজো বিভাগের কোন নেতারও মন্তব্য সংগ্রহে সমর্থ হয়নি ওই ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম।