গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ল্যাবে তৈরি কিট হস্তান্তর

করোনা ভাইরাস পরীক্ষার কিট প্রস্তত বলে জানিয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। শনিবার (২৫ এপ্রিল) ধানমন্ডিস্থ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই নমুনা কিট ব্যবহারের জন্য প্রস্তত বলে জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও অন্যতম ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে এই কিট হস্তান্তরের কথা থাকলেও অধিদপ্তরের কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বলা হয় ব্যস্ততার কারণে তারা আসেনি।
রোববার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আমরা নমুনা কিট পৌঁছে দেব। আশা করি এক সপ্তাহের মধ্যে সরকার অনুমোদন দেবে। সরকারি অনুমোদন পেলে পরের সপ্তাহে কিট উৎপাদন শুরু করা যাবে বলে জানান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। কিটের দাম সর্বোচ্চ আড়াইশ টাকা পড়বে জানিয়ে জাফরুল্লাহ বলেন এটির বাজার মূল্য ৩০০ টাকা হবে।
প্রস্তুত করা কিট পরীক্ষায় সফল দাবি করে গবেষক দলের প্রধান বিজন কুমার শীল বলেন, এন্টিবডি ও এন্টিজেন্ট এই দুটির সমন্বয় করেই কিট তৈরি করা হয়েছে। এটি পাঁচ মিনিটের মধ্যেই করোনা পরীক্ষা করা যাবে। সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞানীরা গণস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তুত করা কিট আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।
গত ১৭ই মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের পরীক্ষার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণায় কিট উৎপাদনের কথা জানায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। ১৯শে মার্চ কিট উৎপাদনের সরকারি অনুমোদন পায় প্রতিষ্ঠানটি। 
করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের ‘জিআর র‌্যাপিড ডট বট ইমিউনোঅ্যাসি’ কিট তৈরির জন্য গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গবেষক দলের নেতৃত্ব দেন ড. বিজন কুমার শীল। গবেষক দলের অন্যদের মাঝে আছেন ড. নিহাদ আদনান, ড. মোহাম্মদ রাঈদ জমিরউদ্দিন, ড. ফিরোজ আহমেদ ও সিঙ্গাপুরের একজন গবেষক।
৫ই এপ্রিল চীন থেকে কিট তৈরির কাঁচামাল আমদানি করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। ২০শে এপ্রিল এ কিট জমা দেয়ার কথা থাকলেও বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে তা পিছিয়ে যায়। এছাড়া করোনা রোগীর রক্ত সংগ্রহেও বেগ পেতে হয় হয় বলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র জানায়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় পরে রক্ত সংগ্রহ করা হয়।