যে নামগুলো ভুলেও রাখবেন না

প্রত্যেকটি সন্তান পৃথিবীতে জন্ম নেয়ার পর পিতা-মাতার সর্বপ্রথম দায়িত্ব হলা সন্তানের সুন্দর একটি নাম রাখা। আর এই সুন্দর নাম রাখার বিশেষ কিছু কারণও রয়েছে। 

বিশ্ব নবী রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কেয়ামতের মাঠে প্রত্যেকটি মানুষকে তার নাম এবং পিতার নামসহ ডাকা হবে। অনেক মানুষ তাদের নামের কারণে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আবার অনেক মানুষ নামের কারণেই জাহান্নামে যাবে।
তবে আমাদের সমাজে এখন ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগ চলছে। অনেকে কোরআন হাদিস থেকে দূরে সরে আসার কারণে সন্তান জন্ম নেয়ার পরে সু্ন্দর একটি নাম রাখবে, সেখানেও তারা ব্যর্থ হয়ে যায়।
অনেকে নাম রাখে আলিফ, মীম, জীম। আর এই আলিফ, মীম, জীম আরবি ২৯ টি হরফের অন্তর্ভুক্ত। এর কোনো অর্থ নেই। আবার কিছু কিছু মানুষ তাদের সন্তানের নাম রাখে যেই নামের মধ্যে শেরেকের গন্ধ পাওয়া যায়। এই নাম ধরে যারা ডাকবেন তারাও গুনাহগার হবে। আর যাকে ডাকা হবে সেও গুনাহগার হবে।

চলুন তবে জেনে নেয়া যাক এমন ৪টি নাম সম্পর্কে-
(১) রাব্বি :
আরবি ভাষা যারা বুঝেন তারা অবশ্যই জানেন, রাব্বি মানে কি? রাব্বি নামের অর্থ হলো আমার প্রভু, মনিব, মালিক। যেমন: আল্লাহ রাসূলকে জ্ঞান বাড়ানোর দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন, ‘রাব্বি যিদনি ইলমা’। মানুষের নাম যদি রাব্বি রাখা হয়, তাহলে সে হয়ে যায় আমার প্রভু। আল্লাহ এক। তার কোনো শরিক নেই। তিনিই একমাত্র প্রভু। তাকে ছাড়া আর কাউকে প্রভু মানার জায়েজ নেই। এই নাম রাখার পরে, যারা এই নাম ধরে ডাকবে তারাও গুনাহগার হবে। তাই এই নাম রাখা জায়েজ নয়।
(২) গোলাম রাসূল বা গোলাম মোস্তফা :
আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারোর গোলাম নই। যদি নাম রাখা হয় গোলাম রাসূল এ থেকে বোঝা যায় যে, আমরা রাসূল (সা.) এর গোলাম। আবার গোলাম মোস্তফা বলতে বোঝায় মোস্তফার গোলাম। পৃথিবীর সমস্ত মানুষ হলো আল্লাহর গোলাম এমনকি বিশ্ব নবী (সা.)-ও আল্লাহর গোলাম। এজন্য গোলাম রাসূল বা গোলাম মোস্তফা নামেও শেরেকের গন্ধ পাওয়া যায়। অতএব এই নাম রাখারও জায়েজ নয়।
(৩) তুকাজ্জিবান :
কোরআন শরিফের কত জায়গায় তুকাজ্জিবান নাম রয়েছে। তুকাজ্জিবান শব্দটি সূরা আর-রাহমানের একটি আয়াতের অংশ। যার অর্থ হলো অস্বীকার করা, মিথ্যুক। আর তুকাজ্জিবান আসলে কোনো নাম নয়। এবং এরকম নাম রাখাটাও উচিত নয়। কেননা শুধু কোরআনে থাকলেই ইসলামিক নাম হয় না। এক্ষেত্রে নামের অর্থের দিকে একটু নজর রাখতে হবে। প্রত্যেক সন্তানের ভালো অর্থবোধক নাম হওয়া বাঞ্চনীয়। তাই বলা যায়, তুকাজ্জিবান নাম রাখাটাও জায়েজ হবে না।
(৪) সাইরিত্যুন নাস বা মালিকুল - মুলক :
মালিকুল-মুলক এই নামের অর্থ হলো রাজ্যের মালিক, সমগ্র জগতের বাদশাহ। আমাদের এই পুরো পৃথিবীর বাদশাহ একজনই। তিনি হলেন আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তায়ালা। তাই আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে এ নামে ডাকা যাবে না। যে বলবে সেও শির্‌কে লিপ্ত হবে। এজন্য ইসলামে এই ধরনের নাম রাখার কোনা জায়েজ নেই।
অতএব, উপরোক্ত বিষয় থেকে আমরা জানতে পারলাম যে, প্রত্যেকটি সন্তানের সুন্দর একটি নাম রাখতে হবে। আর নাম রাখতে গিয়ে যেন শির্‌ক না করে ফেলি সে বিষয়টিও খেয়াল রাখতে হবে। আল্লাহ আমাদের শিশুদের সুন্দর সুন্দর নাম রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।