সর্বদলীয় সরকার; ইউনূস রাষ্ট্রপতি, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী?

ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করে একটি সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সর্বদলীয় ভাবে মুজিব বর্ষ উদযাপন এবং সরকারের নানা ব্যর্থতার প্রেক্ষিতে একটি সর্বদলীয় সরকার গঠনের উদ্যোগে করেছে বাংলাদেশের সুশীল সমাজের একাংশ। এ নিয়ে কয়েকটি দূতাবাসের সঙ্গে তারা আলাপ আলোচনা করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক জোট থেকে সদস্য নিয়ে একটি সর্বদলীয় মন্ত্রিসভা গঠন করা এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি করার প্রস্তাব রয়েছে এই সর্বদলীয় সরকার গঠনের রূপরেখায়।
তবে আওয়ামী লীগের একাধিক রাজেনৈতিক নেতা এটাকে আজগুবি, অবাস্তব এবং নীতি জ্ঞানহীন প্রস্তাবনা বলে মনে করছে। তারা বলছে এই ধরণের কোনো প্রস্তাবনা নিয়ে চিন্তা করাও একটা গর্হিত অপরাধ। তবে দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র বলছে, সুশীল সমাজের একটি অংশ এবং বাংলাদেশে কর্মরত কয়েকটি দূতাবাস এরকম একটি সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাবনা নিয়ে ইতোমধ্যেই ক্ষুদ্র পরিসরে আলাপ আলোচনা শুরু করেছে। সর্বদলীয় সরকার গঠনের তিনটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে;
১. বাংলাদেশে যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে এবং বাংলাদেশ যে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে সেই প্রবৃদ্ধি অব্যহত রাখার জন্য একটি জাতীয় ঐক্যমতের প্রয়োজন। আর জাতীয় ঐক্যের জন্য সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রয়োজন।
২. বর্তমান সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। বিশেষ করে যে সমস্ত বিষয়গুলোতে জনকল্যানের জন্য সরকারের কঠোর হওয়া প্রয়োজন যেমন পরিবহন খাত, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি। সেই সমস্ত বিষয়গুলোতে সরকার কঠোর হতে পারছে না।
৩. মনে করা হচ্ছে সরকার বিরোধী দলগুলোকে যথাযথ কথা বলার সুযোগ দিচ্ছে না। যে কারণে একটি রাজনৈতিক অসন্তোষ এবং অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং অগ্রগতির ধারা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সর্বদলীয় সরকার গঠনের ধারণা সামনে এসেছে। তবে যারা এই ধারণার সঙ্গে যুক্ত তারা বলছে যে, এটা একেবারেই অঙ্কুরে রয়েছে। এটা আদৌ বাস্তবায়িত হবে কিনা বা বাস্তবায়িত হলেও তা অনেকটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। সূত্রমতে সর্বদলীয় সরকারের রুপরেখায় একটি সুশীল সমাজ এবং রাজনৈতিক দলের সহাবস্থানের কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। সেখানে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি এবং সংবিধান সংশোধন করে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সর্বদলীয় একটি মন্ত্রিসভা গঠনের কথা বলা হয়েছে। সর্বদলীয় মন্ত্রিসভায় বর্তমান মন্ত্রিসভার পরিবর্তে তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমুর মতো হেভিওয়েটদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভূক্ত করা, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির কতিপয়কে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভূক্ত করা হবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দুয়েকজনকে যুক্তকরাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
মনে করা হচ্ছে, সর্বদলীয় সরকারের ধারণাটি এসেছে বাংলাদেশের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে যে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অবিশ্বাস তৈরী হয়েছে তা দূর করার জন্য। এই সর্বদলীয় সরকারের প্রধান কাজ হবে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা। পুনর্গঠন করে কতগুলো মৌলিক বিষয়ে জাতীয় ঐক্যমত গঠন করা। যেমন; বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য, উন্নয়ন অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখা ইত্যাদি। তবে এ ধরণের সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাবের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের গুরুতর আপত্তি রয়েছে। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন, এ ধরনের ষড়যন্ত্র আওয়ামী লীগ অতীতেও মোকাবিলা করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ স্বোচ্ছার থাকবে এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যতক্ষণ পর্যন্ত জাগ্রত থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত এ ধরনের ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের মাটিকে বাস্তবায়িত হতে পারবে না।