করোনার ভ্যাকসিন : মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু

যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসের পরীক্ষাধীন একটি ভ্যাকসিন মানব শরীরের প্রয়োগ করে পরীক্ষা শুরু হয়েছে আজ বৃহস্পতিবার।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হেনকক বলেন, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকদলের তৈরি ভ্যাকসিন মানুষের শরীরের প্রয়োগ করে পরীক্ষা বৃহস্পতিবার শুরু হবে। ম্যাট হেনকক বলেন, সাধারণ সময়ে এ পর্যায়ে যেতে গবেষকদলের জন্য বছরখানেক সময় লাগে। তবে এখন পরিস্থিতি তেমন নয়। আমি খুবই গর্বিত যে, গবেষকরা এত কম সময়ে এত দূর এসেছেন। যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনা বিষয়ে তার নিয়মিত এ সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির এই বিজ্ঞানীদের জন্য ২ কোটি পাউন্ড বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের আরেকদল গবেষকের জন্য আরও ২ কোটি ২৫ লাখ পাউন্ড বরাদ্দের ঘোষণাও দেন তিনি। ম্যাট হেনকক বলেন, এসব গবেষণার ফলাফল বা কোন কিছুই নিশ্চিত নয়।
ভ্যাকসিন তৈরির প্রক্রিয়াটি হলো- একটি ‘ট্রায়াল এন্ড অ্যারর’ প্রক্রিয়া। বারবার পরীক্ষা করে ভুলগুলো চিহ্নিত করে ভ্যাকসিন নিখুঁত করা হয়। এটাই হলো ভ্যাকসিন তৈরির নিয়ম। করোনার এই ভ্যাকসিন নিয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা খুবই আশাবাদী। তাদের আশা, কয়েক মাসের মধ্যেই এই ভ্যাকসিনের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচবে। ইতিমধ্যে এই ভ্যাকসিনটি প্রাণীদেহে প্রয়োগ করে দারুণ ফল পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন গবেষকরা।
এবার মানবদেহে প্রয়োগ করে ইতিবাচক ফল আসলে প্রাথমিকভাবে এ ভ্যাকসিনের ১০ লাখ ডোজ বানাবে অক্সফোর্ড। উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে সংক্রমণ শুরু হওয়া নভেল করোনাভাইরাস সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১ লাখ ৭৬ হাজারের বেশি প্রাণহানি হয়েছে। এ ভাইরাসের কোন ভ্যাকসিন বা ওষুধ এখনও তৈরি করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে বিশ্বজুড়ে ৭০টি ভ্যাকসিন তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে খুব কমই মানব শরীরের প্রয়োগ করে পরীক্ষার পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।