মোদি সরকার বুঝিয়ে দিলো শেখ হাসিনাই একমাত্র চয়েজ

করোনায় যখন টালমাটাল বিশ্ব।বাংলাদেশেও করোনা যখন লণ্ডভণ্ড করে চলেছে দেশের জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি, বিপর্যস্ত করছে মানুষের জনজীবন, ঠিক সেই সময় মুজিববর্ষে বাংলাদেশ একটি নয়, দুটি সুখবর পেল। দুটি সুখবরই পেল ভারতের সৌজন্যে। দুটি সুখবর হলো বঙ্গবন্ধুর দুই খুনী রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন এবং খুনী মাজেদ গ্রেপ্তার হয়েছে। এর মধ্যে মাজেদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। মোসলেহকে বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হয়েছে, এখন আনুষ্ঠানিকতা বাকি। আমরা আশা করছি খুব শীঘ্রই হয়তো তারও দণ্ড কার‌্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ৭৫ এর ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যা করেছিল, স্বাধীনতা বিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল চক্র। শুধু হত্যা করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি, দীর্ঘ ২১ বছর এই হত্যার পথ রুদ্ধ করে ইনডেমেনিটি অধ্যাদেশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। 

১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে। প্রচলিত আইনে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে। দীর্ঘ পথ মাড়িয়ে ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার পর সর্বোচ্চ আদালত (সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ) চূড়ান্ত রায় দেয় এবং ১২ জনের ফাঁসি কার‌্যকর করার নির্দেশনা দেয়। এর মধ্যে ৬ জনের ফাঁসি কার‌্যকর করা হলেও বাকিরা পলাতক ছিল। একজন বিদেশেই মারা যায়। এই প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধু যে সমস্ত আত্নস্বীকৃত খুনী বিদেশে পালিয়ে আছে তাদের খুঁজে বের করার জন্য বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশগুলোতে আবেদন নিবেদন করে। কিন্তু অধিকাংশ দেশই সাড়া দেয়নি।

বাংলাদেশের গোয়েন্দারা জানতে পারে যে, জাতির পিতার দুজন খুনী মাজেদ এবং রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন- দুজনেই ভারতে আত্নগোপন করে আছেন। এরপর শুরু হয় কূটনৈতিক তৎপরতা। 

উল্লেখ্য যে, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতের সঙ্গে অত্যন্ত সু সম্পর্কের ভিত্তি তৈরী হয়েছিল। বিশেষ করে বাংলাদেশ যখন বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং জঙ্গীবাদের ব্যাপারে শুন্য সহিষ্ণুতা নীতি গ্রহণ করেছিল এবং বাংলাদেশের এক ইঞ্চিও জমি ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় কেন্দ্র করতে দেওয়া হবে না এরকম স্পষ্ট ঘোষণার পর ভারত সরকার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এবং কূটনীতিতে মুগ্ধ হয়। তার শেখ হাসিনার প্রতি সম্মান জানায়। শেখ হাসিনা সেই কূটনৈতিক নীতি এবং শিষ্টাচার মেনেই এগিয়ে যাচ্ছেন। যদিও দু দেশের মধ্যে এখনো অনেকগুলো বিষয় অমীমাংসিত রয়েছে। যেমন তিস্তার পানি চুক্তি, সীমান্তে হত্যাকাণ্ডসহ নানা বিষয় নিয়ে দু দেশের মধ্যে এখনো সম্পর্কের টানাপোড়েন রয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন তিনি ভারতের সবচেয়ে ভালো বন্ধু। বিশেষ করে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ব্যাপারে কোন রকম আশ্রয় প্রশ্রয় না নেওয়ার ব্যাপারে নীতির ফলে ভারত সরকার একরকম তার প্রতি কৃতজ্ঞ। আর এই কৃতজ্ঞতার প্রতিদান হিসেবে ভারত সবসময় চায় যে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার শক্তিশালী থাকুক।

আমরা জানি শেখ হাসিনার একটি বড় চাওয়া ছিল জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার। বিচারের আওতায় এনে তাদের দণ্ড কার‌্যকর করা। এজন্য ভারতে আত্নগোপনে থাকা এই দুই খুনীকেও তিনি চেয়েছিলেন। মুজিববর্ষে ভারত সরকারের গোয়েন্দারা এই দুই খুনীকে আটক করে বাংলাদেশের হাতে তুলে দিয়ে মুজিববর্ষে একটি বড় উপহার দিলো। যখন করোনা সংকটের কারণে বাংলাদেশে মুজিববর্ষ উৎসবের আমেজ নেই। যখন এক ধরণের বিবর্ণতা এবং হতাশা, ঠিক সেই সময় ভারতের গোয়েন্দারা দুজন খুনীকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দিয়ে প্রমাণ করলো যে, শেখ হাসিনাই তাদের প্রথম পছন্দ। মেখ হাসিার কোন বিকল্প এখন ভারতের কাছে নেই। 

দীর্ঘদিন ধরে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নষ্ট করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কূটনৈতিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে যেন সু সম্পর্ক না থাকে, ভারতীয় সরকার যেন আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা ছাড়ার চাপ দেয় এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে নানা রকম কুৎসা রটনা করে যেন ভারতকে বিগড়ে দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যেন সম্পর্ক খারাপ করে দেওয়া হয় সেজন্য কম ষড়যন্ত্র হয়নি। কিন্তু দুই খুনীকে ভারত যেভাবে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করলো তাতে স্পষ্ট প্রমাণিত হলো যে, মোদি সরকারের কাছে শেখ হাসিনার বিকল্প কিছু নেই। শেখ হাসিনাই তাদের একমাত্র চয়েজ।