রমজানে যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করলো তালেবান

আফগানিস্তানের সরকার পবিত্র রমজান মাসে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে তালেবান। বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি জানিয়েছে সম্ভাব্য শান্তি প্রক্রিয়া যদি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা যেত তাহলে যুদ্ধবিরতি সম্ভব ছিলো। তবে তাতে বাধা পড়ায় অস্ত্র রেখে দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন গোষ্ঠীটির মুখপাত্র সুহাইল শাহিন। এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির আহ্বান যৌক্তিক নয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই খবর জানিয়েছে।


শুক্রবার শুরু হয়েছে মুসলমানদের কাছে পবিত্র রমজান মাস। এই মাসে তালেবানদের অস্ত্র রেখে দিয়ে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। আর তা হলে কর্তৃপক্ষ করোনাভাইরাস মোকাবিলায় মনোযোগ দিতে পারে বলে জানান তিনি।

তবে শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে মতবিরোধ এবং বন্দি বিনিময়ে বিলম্বকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হিসেবে উল্লেখ করেছেন তালেবান মুখপাত্র। সুহাইল শাহিনের অভিযোগ করোনাভাইরাসের মধ্যে কারাবন্দিদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে তালেবান সরকার।

আফগানিস্তানে এখন পর্যন্ত এক হাজার তিনশোরও বেশি করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা আরও বেশি পরিমাণে পরীক্ষা করা সম্ভব হলে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি হতো।   

গত ফেব্রুয়ারিতে তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর আফগানিস্তানের ১৮ বছরের দীর্ঘ যুদ্ধ অবসানের সম্ভাবনা তৈরি হয়। ওই চুক্তিতে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তালেবানরা নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী বর্তমানে আফগান সরকার ও তালেবান কর্তৃপক্ষ বন্দি বিনিময় ও কার্যকর যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে গত সপ্তাহে তালেবানদের বেশ কয়েকটি হামলায় আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কয়েক সদস্য নিহত হলে উভয় পক্ষের মতবিরোধ তৈরি হয়। এসব হামলা মূলত সীমিত আকারে বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় চালানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী কোনও শহরে হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তালেবান। বেশ কিছু নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং আফগান সরকারের সঙ্গে আলোচনার শর্তে ২০২১ সালের জুলাইতে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য বিদেশি সেনারা আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে