দুই মহিয়সী সারাহ ও এলিসার জন্য প্রার্থনা

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ৫৮ বছর বয়সী সারাহ ক্যাথিরন গিলবার্ট আর অক্সফোর্ডেরই বায়োলজি ডিপার্টমেস্টের ছাত্রী ৩২ বছর বয়সী তরুণ এলিসা গ্রানাতো। বিশ্ববাসী এখন তাকিয়ে আছে এই দুই নারীর দিকে। হৃদয়ের গভীর থেকে তাদের জন্য প্রাথর্না করছে; তারা সফল হোক। কারণ তাদের সাফল্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার চ্যালেঞ্জ।
মানব বিধ্বংসী করোনা-১৯ ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রতিষেধক তৈরি করেছেন সারাহ গিলবার্টের নেতৃত্বে গবেষক দল । চ্যাডক্স -১৯ সা,রে এই ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা পরীক্ষায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বেচ্ছায় নিজ দেহে স্যাম্পল নিলেন এলিসা গ্রানাতো।
মানুষকে রক্ষার বিশ্বযুদ্ধে এই মুহূর্তে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সারাহ আর এলিসা, বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে তাদের দিকে।

চ্যাডক্স -১৯ ভ্যাকসিনের মাধ্যমে এলিসার শরীরে রোববারের মধ্যে এন্টিবডি তৈরি হওয়ার কথা। এরপর কোভিট- ১৯ ভাইরাস তার শরীরে পুশ করা হবে। বিষয়টি কি সাংঘাতিক! ভাবাই যায় না। এই পরীক্ষায় কি ফল হবে তা আমরা নিশ্চিত নই। তবু, আমরা লক্ষ /কোটি মানুষ আশায় বুক বেধে আছি এই পরীক্ষা যেন সফল হয়। এলিস যেন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠে আবারও মানুষের কল্যাণে মানুষের পাশে থাকেন আর সারাহ যেন সফল হন তার যুগান্তকারী আবিষ্কারে।
করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বিজ্ঞানী সারাহ গিলবার্ট তার এই টিকা নিয়ে বেশ আশাবাদী। তিনি বলছেন, করোনাভাইরাসের এই টিকাটি মানব দেহে ৮০ শতাংশ কাজ করবে বলে বিশ্বাস তার। সারাহ গিলবার্টের এই বিশ্বাসের সঙ্গে আশ্বস্ত হতে চায় সবাই। কেননা এর আগেও ইবোলা ভাইরাস মোকাবিলায় সারাহ গিলবার্ট অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০১৩-২০১৫ এই বছরে আফ্রিকার দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাসে প্রচুর মানুষ মারা গেছেন। আতঙ্কের ওই সময়ে বিজ্ঞানী সারাহ গিলবার্টের তৈরি টিকায় প্রাণে বেঁচেছিলেন হাজারও মানুষ।
বিজ্ঞানী সারাহ গিলবার্টের পুরো নাম সারাহ ক্যাথরিন গিলবার্ট । তার জন্ম জন্ম ১৯৬২ সালের ১৯ এপ্রিল। তিনি একজন ব্রিটিশ ভ্যাকসিনোলজিস্ট যিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাকসিনোলজির অধ্যাপক এবং ভ্যাকিটেকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। গিলবার্ট ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং উদীয়মান ভাইরাল প্যাথোজেনগুলোর বিরুদ্ধে ভ্যাকসিনগুলোর বিশেষজ্ঞ।
গিলবার্টের আবিষ্কৃত করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে আশাবাদী বিশ্ব। সবার বিশ্বাস বিজ্ঞানী সারাহ ক্যাথরিন গিলবার্টের হাত ধরেই হয়তো ইবোলার মতো করোনাভাইরাস থেকেও রক্ষা পাবে মানুষ। বেঁচে যাবে অনেকগুলো প্রাণ, পৃথিবী ফিরে পাবে চেনারূপ।
করোনা ভাইরাস ভ্যাকসিনের প্রথম টেস্ট কেস হিসেবে ইতিহাসের অংশ হওয়া এলিসা গ্রানাতো পেশায় মলিকুলার মাইক্রোবায়োলজিস্ট। গবেষণার কাজ করছেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব বায়োলজিতে। শুক্রবার ছিলো তার ৩২ তম জন্মদিন। আর এদিনেই তিনি নিজের শরীরে নিয়েছেন করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন। নিজের শরীরে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করার পরে তিনি বলেন, জীবনুদের জীবনপ্রণালী এবং তাদের আচরণগ কীভাবে বিকশিত হয় জানতে আমি ব্যাপকভাবে আগ্রহী। মলিকুলার মাইক্রোবায়োলজিস্ট হিসেবে প্রশিক্ষণ নেয়ার পরেআমি বাস্তুবিদ্যা এবং সামাজিক বিবর্তনের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠি। এখন, আমার লক্ষ্য হচ্ছে জীবানুগুলোর কলাকৌশল জানা।
সারাহ গিলবার্ট আবিষ্কৃত চ্যাডক্স -১৯ ভ্যাকসিন প্রয়োগের পরে এলিসার শরীরে রোগপ্রতিরোধী এন্টিবডি তৈরি হবে। তারপরই তার শরীরে করোনাভাইরাস ঢুকিয়ে দেয়া হবে। যদি তার শরীরে তৈরি হওয়া এন্টিবডি করোনা ভাইরাসকে মেরে ফেলতে সক্ষম হয়, তাহলেই ধরে নেয়া হবে যে ভ্যাকসিনটি শতভাগ সফল ও কার্যকর হয়েছে।
এই আবিষ্কারের কার্যকারিতা প্রমাণিত হোক, বিশ্ব থেকে নিষ্ক্রান্ত হোক আণুবীক্ষণীক দানব করোনা- এই আমাদের প্রার্থনা।