করোনা মোকাবিলায় সন্ত্রাসবাদ দমনে ব্যবহৃত পদ্ধতি প্রয়োগ করছে পাকিস্তান

সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় একটি কন্টাক্ট ট্রেসিং সিস্টেম তৈরি করে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা। এখন সেই সিস্টেম ব্যবহার করে করোনা রোগীদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করছে দেশটি। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান জানিয়েছেন, এই পদ্ধতির ব্যবহার দেশটিতে ব্যবসা-বাণিজ্য চালু করতে সাহায্য করবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।


পাকিস্তানে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এই সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা ১১ হাজার ১১৫ জনে পৌঁছেছে আর মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩৭ জনে। আর চিকিৎসার পর দেশটিতে সুস্থ হয়ে উঠেছে দুই হাজার ৫২৭ জন। আক্রান্ত বাড়তে থাকলেও গত সপ্তাহে লকডাউন শিথিল শুরু করেছে দেশটির সরকার। বেকারত্ব বৃদ্ধি ঠেকাতে খুলে দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি খাতের প্রতিষ্ঠান।

বৃহস্পতিবার এক সরাসরি সম্প্রচারিত ভাষণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শে কারা এসেছেন তাদের শনাক্ত করতে সরকারকে সহায়তা দিচ্ছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)। তিনি বলেন, ‘আইএসআই আমাদের শনাক্ত এবং অবস্থান চিহ্নিত করার একটি চমৎকার উপায় দিয়েছে। এটা মূলত সন্ত্রাসবাদ দমনে ব্যবহার হয়। তবে এখন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে এটি প্রয়োজনীয় হিসেবে দেখা যাচ্ছে।’

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, আইএসআই নজরদারি কর্মসূচি ব্যবহার করে মানবাধিকার কর্মীসহ অনেককে অপহরণ করছে। তবে ইমরান খান বলছেন, আইএসআই’র এই পদ্ধতি ব্যবসা-বাণিজ্য খুলে দিতে সাহায্য করবে। তিনি বলেন, ‘(ভাইরাস মোকাবিলায়) শনাক্ত এবং অবস্থান নির্ণয় সবচেয়ে ভালো উপায়। আর... আপনি যদি ব্যবসা আবারও শুরু করতে চান তাহলে এটাই একমাত্র উপায়।’